logo

ইউক্রেন যুদ্ধে সৈন্য ঘাটতি মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে রাশিয়া

ইউক্রেন যুদ্ধে সৈন্য ঘাটতি মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে রাশিয়া

ইউক্রেন যুদ্ধে সৈন্য ঘাটতি মেটাতে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর ‘প্রচণ্ড চাপ’ সৃষ্টি করছে পুতিন সরকার।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সিএনএনের করা এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহের মূল কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক ‘ড্রোন বাহিনী’ বা ইউক্রেনীয় ভাষায় ইউএভি ইউনিটে যোগ দিতে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে প্রলুব্ধ ও বাধ্য করা হচ্ছে।

রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসগুলোতে এখন যুদ্ধের পোস্টারের ছড়াছড়ি। শিক্ষার্থীরা একে ‘প্রচণ্ড মানসিক চাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন শিক্ষার্থীদের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সরাসরি উৎসাহিত করছেন। মনে হচ্ছে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা এখন যুদ্ধের মেশিনে পরিণত হয়েছে।’

গেমারদের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নিয়োগ অভিযানে বিশেষ করে তরুণ ‘গেমার’ বা ভিডিও গেম খেলোয়াড়দের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। প্রচারণায় বলা হচ্ছে, যারা ভিডিও গেমে পারদর্শী, তারা ড্রোন চালনায় দক্ষ হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে বার্তা দেওয়া হচ্ছে—‘ভিডিও গেমে সময় নষ্ট না করে নতুন যুগের পাইলট হোন।’

আর্থিক প্রলোভন ও আইনি ফাঁদ
সৈন্য সংগ্রহ অভিযানে অবিশ্বাস্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের যুদ্ধে যাওয়ার শর্তে এককালীন ৫৬ হাজার ডলার এবং বছরে প্রায় ৭০ হাজার ডলার বেতনের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বলা হচ্ছে, তারা মাত্র এক বছরের চুক্তিতে যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের দিকে নিরাপদ অবস্থানে থেকে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ। ২০২২ সালের আংশিক সমাবেশের ডিক্রি এখনও বহাল থাকায়, একবার চুক্তিতে সই করলে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সৈন্যই সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাবে না। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, শিক্ষার্থীরা কার্যত সামরিক বাহিনীর দাসে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

বহিষ্কারের ভয় দেখিয়ে নিয়োগ
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষার্থীর একাডেমিক ‘বকেয়া’ রয়েছে বা যারা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে আছে, তাদের বলা হচ্ছে যুদ্ধে যোগ দিলেই তাদের সব সমস্যা সমাধান করে দেওয়া হবে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মানসিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদেরও টার্গেট করা হচ্ছে।

এক শিক্ষার্থী সিএনএনকে বলেন, ‘আমাদের গ্রুপের প্রায় এক তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের হুমকি দিয়ে স্পটেই সামরিক চুক্তিতে সই করানোর চেষ্টা করা হয়েছে।’

কেন এই কৌশল?
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে সরাসরি সৈন্য নিয়োগের ঘোষণা দিলে রাশিয়ায় জনরোষ তৈরি হতে পারে। তাই সরকার অত্যন্ত কৌশলে এবং গোপনে তরুণ সমাজকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে প্রথাগতভাবে ‘নিরাপদ স্থান’ হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করা ক্রেমলিনের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।