logo

ইরানের হামলায় ২৪ ঘণ্টায় ১৪৮ ইসরায়েলি আহত

ইরানের হামলায় ২৪ ঘণ্টায় ১৪৮ ইসরায়েলি আহত

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের ১৪৮ জন আহত হয়েছেন। আলজাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ছয় হাজার ৫৯৪ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, এই হতাহতের তালিকায় সামরিক সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিক উভয়ই রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এই আহতদের মধ্যে অনেকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট হামলার শিকার হয়েছেন, আবার অনেকে সাইরেন বাজার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের একটি নির্মাণাধীন সেতু আংশিক ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ। হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।

তেহরান থেকে পশ্চিমের শহর কারাজকে সংযুক্ত করার জন্য নির্মিত এই সেতুটি ১৩৬ মিটার উচ্চতার হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উচ্চ সেতু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। প্রকল্পটি শেষ হলে এটিকে অঞ্চলের একটি প্রকৌশল বিস্ময় হিসেবে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কারাজের বি-১ সেতুতে হামলা চালায়। প্রথম দফার হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন। পরে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দ্বিতীয় দফায় আবার হামলা চালানো হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার পর সেতু এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠছে এবং কাঠামোর একটি অংশ ভেঙে পড়ছে।

হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলেছেন, অসমাপ্ত সেতুসহ বেসামরিক কাঠামোতে হামলা ইরানিদের সমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না।

পোস্টের সঙ্গে তিনি ধ্বংস হওয়া সেতুর একটি ছবি শেয়ার করেন।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের হামলা ইরানের অনড় অবস্থান নড়বড়ে করতে পারবে না। শত্রুরা এখন বিভ্রান্ত ও নৈতিকভাবে পরাজিত অবস্থায় আছে, কিন্তু আমরা অটল।’

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হামলার ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, ‘ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ধসে পড়েছে, আর কখনো ব্যবহার করা যাবে না। এরপর আরও অনেক কিছু আসছে।’

তিনি ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেরি হওয়ার আগে চুক্তিতে আসা উচিত।’

এর আগে দিনের শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই ‘মূল কৌশলগত লক্ষ্য’ অর্জন সম্পন্ন হবে।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে এবং দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমাদের শত্রুরা দুর্বল হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় জয় অর্জনের পথে রয়েছে।’