logo

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ইরানের

পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ উত্তেজনার মধ্যে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে ইরান।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নতুন দফার পরমাণু আলোচনার আগ মুহূর্তে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। ইতোমধ্যেই আলোচনায় অংশ নিতে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। যদিও দেশটি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। তারা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেনি।

এর মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি জানিয়েছে, দেশটির সবচেয়ে উন্নত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর–৪’ বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার এবং এটি ১ হাজার ৫০০ কেজি ওয়ারহেড বহনে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ক্ষেপণাস্ত্র শহরগুলোতে খোররামশাহর–৪-এর কার্যকর মোতায়েন সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষাকেন্দ্রিক কৌশল থেকে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানের ঘোষণার সঙ্গে মিলেছে। এতে আঞ্চলিক ও বহিরাঞ্চলীয় প্রতিপক্ষদের প্রতি একটি ‘স্পষ্ট বার্তা’ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

গত বছরে ইসরায়েলের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ চালায়। এর আগে মার্কিন ও তার মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের যুদ্ধে নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করে আসছে তেহরান। তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, তারা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি কয়েক বছর পেছাতে সক্ষম হয়েছে।

যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারেনি। সংস্থাটির সন্দেহ, আক্রমণ আসন্ন হতে দেখেই ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছে তেহরান। তারা শিগগিরই আবারও অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি শুরু করতে পারে।

সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া উত্তেজনা এই অঞ্চলের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছে।

চুপ থাকেননি ইরানি কর্মকর্তারা। তারাও পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এবং ইসরায়েল প্রথম লক্ষ্যবস্তু হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা চালালে তার তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে। এর ফলে পরিস্থিতি ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ দিকে গড়াতে পারে।

তবে যুদ্ধ এড়াতে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা আজ শুক্রবার ওমানে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন দফা আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন।

ইরানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রে পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, প্রেস টিভি