পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের যে দুই শীর্ষ নেতাকে মারেনি ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রথম যৌথ হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি থেকে শুরু করে অর্ধশতাধিক শীর্ষ নেতা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এই যুদ্ধে ইরানের কোন কোন নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে তাদের একটি ‘হিট লিস্ট’ বা হত্যার তালিকা তৈরি করেছিল ইসরায়েল।
তবে পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে এ তালিকা থেকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন আলোচনার বিষয়ে অবগত এক পাকিস্তানি সূত্র।
সূত্রটি বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে আরাঘছি ও গালিবাফের অবস্থান সংক্রান্ত নিখুঁত তথ্য ছিল এবং যেকোনো মুহূর্তে তাদের ওপর হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
ওই অবস্থায় পাকিস্তান ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল, যদি এই দুই শীর্ষ নেতাকেও হত্যা করা হয়, তবে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য আর কোনো বিশ্বাসযোগ্য মুখ অবশিষ্ট থাকবে না। ইসলামাবাদের এই যুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে তাদের অভিযান থেকে পিছিয়ে আসার নির্দেশ দেয়।
যদিও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম প্রতিবেদন করেছিল, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ খুঁজতে এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে ইসরায়েলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তাদের চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য তালিকা থেকে সরানো হয়েছে, তবে সেখানে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক।
আলোচনার ধারাবহিকতায় ইরান বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফার প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান একটি চুক্তির জন্য মরিয়া। অন্যদিকে আরাঘছি জানিয়েছেন, তারা প্রস্তাবটি দেখছেন কিন্তু সরাসরি আলোচনার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই।