logo
Advertisement

নিরাপত্তার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যাবে না: কাতার

টিআরটি ওয়ার্ল্ড
টিআরটি ওয়ার্ল্ড
নিরাপত্তার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যাবে না: কাতার
মানচিত্রে উপসাগরীয় দেশগুলো। ছবি: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা

উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জোটের ওপর নির্ভর করা যাবে না। নিজেদের নিরাপত্তার সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও স্বনির্ভর হতে হবে।

সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে হিলি ফোরামে এ কথা বলেছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আল-আনসারি।

তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এগুলো একমাত্র ভরসা হতে পারে না।

মাজিদ আল-আনসারি বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।

একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য মিত্র ও অংশীদারদের সহযোগিতা এখনও প্রয়োজন। তবে তাদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা যাবে না।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও দোহা সক্রিয় রয়েছে।

গত মাসে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরান সফর করেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালির দুই তীরবর্তী দেশ ইরান ও ওমান ওই কৌশলগত জলপথে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অস্থায়ী নৌপথ চালু এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণের বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত। চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশটিও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলাও রয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে। সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় দেশগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বাইরের শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে।

গত আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এই চুক্তির লক্ষ্য হলো পারস্পরিক প্রতিরোধক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। এর মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পাশাপাশি শুধু বাইরের শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভরতার বিকল্প খোঁজার প্রবণতাও স্পষ্ট হচ্ছে।