logo

যুদ্ধ নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিক আটক, সিপিজের নিন্দা

যুদ্ধ নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিক আটক, সিপিজের নিন্দা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেওয়ায় এক সাংবাদিককে আটক করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। আটক সাংবাদিকের নাম শিহাব আল দ্বীন। গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে প্রকাশ্যে কোথায় দেখা যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।

রোববার (১৯ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

নিউইয়র্কভিত্তিক গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিপিজে জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সি সাংবাদিক শিহাব আল দ্বীন কুয়েতে নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু গত ২ মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। ওই দিনের পর থেকে অনলাইনে কোনো স্ট্যাটাস করেননি। তাকে জনসমক্ষেও দেখা যায়নি।

পরে জানা যায়, তাকে আটক করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ও মোবাইল ফোনের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা হিসেবে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে হামলা চালায় তেহরান। যুদ্ধসংক্রান্ত স্ট্যাটাস দেওয়ার তাকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিপিজে। এ ঘটনায় সংস্থাটি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, শিহাব আল দ্বীন আটক হওয়ার আগে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ সম্পর্কিত ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেছিলেন। তার সর্বশেষ পোস্টে কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটির কাছে একটি যুদ্ধিবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ফুটেজ রয়েছে।

শিহাব স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। তিনি নিউইয়র্ক টাইমস, এইচবিও, ভাইস, পিবিএস, বিবিসি ও আলজাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। তবে কুয়েত সফরের সময় তিনি তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।

গত ১৫ মার্চ কুয়েত সরকার একটি আইন প্রণয়ন করেছিল। সেখানে সামরিক সংস্থাগুলোর প্রতি আস্থা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তাদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানোর জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধানা রাখা হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার স্থানের ভিডিও ধারণ করা বা অনলাইনে এ সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার বা স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শিহাব-আল দ্বীনের মামলা বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে ইমেল ও টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কুয়েতের সরকারি মুখপাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত।