সৌদি আরবে সিআইএ’র কার্যালয়ে ইরানের হামলা

সৌদি আরবে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) কার্যালয়ে ড্রোন হামলা করেছে ইরানি।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাতে এ হামলা চালানো হয় বলে জানায় দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
এতে বলা হয়, সৌদি আরবে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) স্টেশনকে লক্ষ্য করে একটি সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে, এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সৌদি মন্ত্রিসভা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিজ দেশের নিরাপত্তা, ভূখণ্ড, নাগরিক এবং বাসিন্দাদের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তারা। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ইরানি হামলাসহ রাজ্যের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বহু শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়।
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে তেহরান। সৌদি আবর, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১০টি দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৭০০- এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।