logo
Advertisement

এবার বৃষ্টির পানিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

নিউইয়র্ক টাইমস
নিউইয়র্ক টাইমস
এবার বৃষ্টির পানিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
বৃষ্টির পানিতেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সন্ধান পাওয়া গেছে ইন্দোনেশিয়ায়। প্রতীকী ছবি

মানুষের রক্ত ও বুকের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবার বৃষ্টির পানিতেও এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সন্ধান পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সি—বিআরআইএনের গবেষকরা।

গবেষকরা জাকার্তার বৃষ্টির পানি পরীক্ষা করে এতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। উপকূলীয় এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বৃষ্টির পানিতে প্রতি বর্গমিটারে গড়ে প্রায় ১৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

বিআরআইএনের গবেষক মোহাম্মদ রেজা কর্ডোভা জানান, ১০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি বাড়ির ছাদে বৃষ্টির সময় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা জমা হতে পারে। বৃষ্টির ফোঁটা বাতাসে ভেসে থাকা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণাকে নিচে নামিয়ে আনে। ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লে বাতাস থেকে আরও বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক মাটিতে নেমে আসে।

গবেষণায় বৃষ্টির পানিতে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের মধ্যে কাপড়ের সিনথেটিক ফাইবার এবং গাড়ির টায়ারে ব্যবহৃত পলিমারের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত পণ্য পুড়ে বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে তৈরি হওয়া ক্ষুদ্র টুকরোও বৃষ্টির পানিতে মিশে থাকতে পারে।

দূষিত বাতাসে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ইন্দোনেশিয়ার বাতাস ও মানুষের শরীরেও আগে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা পোড়ানোর প্রবণতা রয়েছে, যা বাতাসে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার একটি বড় ভাগাড়ে টানা প্রায় ১০ দিন আগুন জ্বলেছিল। মোহাম্মদ রেজা কর্ডোভা জানান, জ্যাতিওয়ারিঙ্গিন ল্যান্ডফিলের ওই আগুনের পর ধোঁয়া ও প্লাস্টিকের টুকরো আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকশ মানুষ তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন।

প্লাস্টিক গ্রহণেও এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের দিক থেকে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান শীর্ষে। দেশটির মানুষ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৫ গ্রাম মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির দিক থেকেও ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ।

মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়। তবে দ্বীপপুঞ্জভিত্তিক দেশ ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও জটিল। দেশটির জলসীমায় ধরা পড়া মাছ ও বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

বৃষ্টির পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের এই উপস্থিতি নতুন করে পরিবেশ, খাদ্যশৃঙ্খল ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্লাস্টিক দূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।