৫ শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত, দাবি ইরানের

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসেরায়েলের যৌথ হামলাল পর শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত ৫০০-এর বেশি মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি।
বুধবার (৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে লারিজানি এ দাবি জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘ভাঁড়ামিপূর্ণ আচরণে’ প্ররোচিত হয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘আমেরিকান জনগণকে ইরানের সঙ্গে এক অন্যায্য যুদ্ধে টেনে আনার’ অভিযোগ তোলেন।
তিনি লিখেছেন, এখন তাকে (ট্রাম্প) হিসাব করতে হবে—গত কয়েক দিনে ৫০০-এর বেশি মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়ার পর আমেরিকা কি এখনও সবার আগে থাকবে, নাকি ইসরায়েল?
লারিজানি ইতোপূর্বে খামেনির সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান। অন্য এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, গল্প এখনও চলছে। ইমাম খামেনির শাহাদাত আপনাদের থেকে চড়া মূল্য আদায় করে নেবে। ইনশাআল্লাহ।
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে আসে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে লড়াই তীব্রতর হচ্ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের শুরু হয়। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার নিহত হন।
উল্লেখ্য, এই কমান্ডাররা ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধে তাদের পূর্বসূরিদের নিহতের পর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চার দিনের লড়াইয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১,০৫০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ১৬৫ জন স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। খামেনিকে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তার বাসভবনে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে তার স্ত্রী, কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা এবং নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সদস্যরাও নিহত হন।
খামেনি হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরানের নেতৃত্ব। তারা ইতোমধ্যেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার এক বিবৃতিতে লারিজানি জানান, ইরান ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে’।
পাশাপাশি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির দেওয়া আলোচনার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন লারিজানি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় মধ্যস্থতা করছিল ওমান।