Advertisement

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর
সৌদি যুবরাজ সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বরাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির ফলে রিয়াদ প্রথমবারের মতো নিজস্ব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার আইনি ও কৌশলগত সুযোগ পাচ্ছে।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ এই চুক্তিকে ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এর ফলে সৌদি আরবের উদীয়মান পারমাণবিক জ্বালানি খাতে মার্কিন ব্যবসা ও বিনিয়োগের বড় ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। তবে এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও বিস্তারিত শর্তাবলী এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

গণমাধ্যমের নানা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই চুক্তির অধীনে ভবিষ্যতে রিয়াদকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। পরমাণু বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, এই ইউরেনিয়াম যেমন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগানো যায়, তেমনি প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করাও সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ওয়াশিংটনের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের মতো চরম উত্তপ্ত ও অস্থিতিশীল অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে উদ্বেগ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পরমাণু সহযোগিতার পাশাপাশি একটি দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তিও সম্পাদন করা হয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এই জোড়া চুক্তি আগামী কয়েক দশকের জন্য শত শত কোটি ডলারের এক দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারত্বের ভিত্তিস্থাপন করল। যা বাণিজ্য বাড়াবে এবং পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধসহ কৌশলগত নিরাপত্তা জোরদার করবে।

অন্যদিকে সৌদি সরকারও এক বিবৃতিতে চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে দুদেশের সম্পর্ক ও শক্তি খাতের দীর্ঘদিনের সহযোগিতারই এক ধারাবাহিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। রিয়াদ আরও উল্লেখ করে, গত নভেম্বরে ওয়াশিংটন সফরের সময় শীর্ষ পর্যায়ে হওয়া আলোচনার সূত্র ধরেই এই চুক্তির বাস্তবায়ন ঘটল।

এমন এক সময়ে এই চুক্তি হলো যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রক্তক্ষয়ী সংঘাত চরম রূপ নিয়েছে। আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবে থাকা একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে সম্প্রতি হামলা চালিয়েছে ইরান। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর ‘নৌ অবরোধের’ ডাক দিয়েছে।