ভারী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া, কারণ কী

টানা তিন দিন ধরে ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান একাডেমি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসন কার্বন-ফাইবার বোমা এবং একটি স্থানান্তরযোগ্য স্বল্পপাল্লার বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই পদক্ষেপকে আধুনিক যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শনে পিয়ংইয়ংয়ের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্লাস্টার বোমাসহ একাধিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং বুধবার দুইবার স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর আগের দিন তারা আরেকটি বস্তু ছুড়েছিল, সেটা ঠিক কী ছিল তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
দেশটির সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য হোয়াসং-১১ কা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি এত বেশি শক্তি ব্যবহার করে যে, প্রায় ৭ হেক্টর (১৭ একর) পর্যন্ত বড় এলাকায় যা কিছু আছে, সবকিছু পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলতে পারে।
ক্লাস্টার বোমা হচ্ছে অসংখ্য ছোট ছোট বোমা নিয়ে তৈরি বড় বোমা। এই বোমা যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন এর ভেতরের ছোট বোমাগুলো বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। একটি ক্লাস্টার বোমা প্রায় ২০০ থেকে ৫০০টি ছোট ছোট বোমা বহন করতে পারে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এসব অস্ত্রের পরীক্ষাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া দেশটির সরকারি গণমাধ্যমও এখন পর্যন্ত পরীক্ষাগুলোর কোনো ছবি প্রকাশ করেনি।
কেসিএনএনের প্রতিবেদন অনুসারে, উত্তর কোরিয়া কিছু নতুন ও শক্তিশালী অস্ত্রের পরীক্ষা করেছে। এই পরীক্ষার তত্ত্বাবধায়ক জেনারেল কিম জং সিক বলেছেন, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক অস্ত্র ও কার্বন-ফাইবার বোমা তাদের সেনাবাহিনীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ অভিযোগ করেন, পিয়ংইয়ং কয়েকদিন ধরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। এসব পরীক্ষা শুধু সামরিক শক্তি বাড়ানোর জন্য নয়, বরং অন্য দেশগুলোকে তাদের উন্নত অস্ত্রশক্তি দেখানোর জন্যও করা হচ্ছে। বুধবার উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সমুদ্রে পড়ার আগে ২৪০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার (১৫০ থেকে ৪৩৪ মাইল) পথ পাড়ি দিয়েছে।
কোরিয়া প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ফোরামের মহাসচিব শিন জং-উ বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো সংঘাত থেকে শিক্ষা নিচ্ছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়া এই প্রথমবার প্রকাশ্যে এও বলছে যে, তারা দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প অবকাঠামোতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে অস্ত্র তৈরি করছে।
এদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আজ বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। আর এমন কথাও শোনা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মে মাসে চীন সফরের সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন-এর সঙ্গে বৈঠক করার চেষ্টা করতে পারেন।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে কতগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট না করেই পিয়ংইয়ং বলেছে, তারা তাদের ভ্রাম্যমাণ স্বল্পপাল্লার বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের যুদ্ধ সক্ষমতা পরীক্ষা করেছে।