মিয়ানমারে ভোটের সময় ৪০৮ বিমান হামলা, নিহত ১৭০

চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারে নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সামরিক সরকার-সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এই নির্বাচনে নিরষ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। নিম্নকক্ষের ২৬৩টি আসনের মধ্যে দলটি পেেয়েছে ২৩২টি এবং উচ্চকক্ষের ১৫৭টি আসনের মধ্যে ১০৯টি।
তবে নির্বাচন চলাকালে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ সময় অন্তত চার শতাধিক বিমান হামলার চালিয়েছে সামরিক বাহিনী। খবর এএফপির।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণকালে আকাশপথে আনুমানিক ৪০৮টি হামলায় ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, ‘অনেক মানুষ কেবল ভয়ের কারণেই ভোট দিয়েছে বা ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তবে সামরিক শাসকগোষ্ঠী দাবি করছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে এবং এতে জনগণের সমর্থন প্রতিফলিত হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানায়, জনসংখ্যার একটি বড় অংশ (সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গারা) নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ভোটাধিকার হারিয়েছে। তাদের অনেকেই দেশছাড়া অবস্থায় রয়েছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের জোট আসিয়ান জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারের এই নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে না। একই সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থা ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না। জাতিসংঘ, মানবাধিকার গোষ্ঠী ও যুক্তরাজ্য এই নির্বাচনকে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছে।