logo

হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান এই প্রস্তাব দিয়েছিল বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন করে সংঘাতে না জড়ানোর শর্তে চুক্তি হলে সংর্কীণ হরমুজ প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে অনুমতি দেবে ইরান।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি জানিয়েছে, কোনো বাধা ছাড়াই ইরান ওমানের জলসীমায় অবস্থিত সংকীর্ণ প্রণালিটির অপর পাশ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে দিতে ইচ্ছুক হতে পারে। 

এই প্রস্তাবটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেওয়া হুমকি থেকে তেহরানের সরে আসার প্রথম দৃশ্যমান পদক্ষেপ। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় ও প্রণালিটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইরান প্রণালির ওমান অংশে পেতে রাখা কোনো মাইন অপসারণ করতে রাজি হবে কি না, অথবা ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোসহ সব জাহাজকে যেতে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি সূত্রটি।

তবে সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নির্ভর করছিল ওয়াশিংটন তেহরানের দাবি মানতে প্রস্তুত কিনা তার ওপর, যা প্রণালিটি নিয়ে যে কোনো সম্ভাব্য অগ্রগতির জন্য প্রধান শর্ত ছিল।

একজন ইরানি কর্মকর্তা আলাদাভাবে বলেছেন, এই প্রস্তাবের অর্থ হলো ইরান তার সার্বভৌম জলসীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে এবং ওমানের দিকে হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ শেষ করার সদিচ্ছা প্রদর্শন করা এবং তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও একই ধরনের নমনীয়তা আশা করছে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

একটি পশ্চিমা নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ওমানের জলসীমা দিয়ে জাহাজগুলোকে অবাধে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবটি নিয়ে কাজ চলছিল। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরানের প্রস্তাব প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা পুনরুদ্ধারের প্রথম পদক্ষেপ।

বিশ্বের অন্যতম এই সংর্কীণ জলপথ দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হয়ে থাকে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে ইরানি অবরোধ থাকায় শত শত জাহাজ প্রণালিটি পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। 

জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল সংস্থা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘প্রতিষ্ঠিত ট্র্যাফিক পৃথকীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার যে কোনো পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।’