ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাল যেসব দেশ

ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসে নিযুক্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে আয়োজিত নৈশভোজে ঘটা গুলির ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় নিরাপত্তাকর্মীরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে বার্ষিক মিডিয়া গালার বলরুমের বাইরের নিরাপত্তা চৌকিতে এক বন্দুকধারী হামলা চালায়। গুলি বর্ষণের মধ্যেই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা হামলাকারী ব্যক্তিকে কাবু করে ফেলেন।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, অভিযুক্ত হামলাকারী কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, তার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বনেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হামলার খবরের প্রতিক্রিয়ায় তারা যা বলছেন তা নিচে দেওয়া হলো:
যুক্তরাষ্ট্র
রাজনৈতিক অঙ্গনের সর্বস্তরের ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানটিতে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানটিতে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও আরও অনেক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি শত শত সাংবাদিক এবং তারকাও উপস্থিত ছিলেন।
সস্ত্রীক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন যে, তারা দুজনেই আজ রাতে দেশের জন্য প্রার্থনা করছেন। নিউইয়র্কের হাউস ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, আমেরিকায় সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটাতে হবে।
ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বোসার জানান, তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, যারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সকল অতিথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বন্দুকধারী ছাড়া অন্য কেউ এই হামলায় জড়িত ছিল বলে বিশ্বাস করার মতো তাৎক্ষণিক কোনো কারণ নেই।
সিবিএস নিউজের সিনিয়র হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্ট ও হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উইজিয়া জিয়াং ঘটনার সময় ট্রাম্পের পাশেই বসেছিলেন। সাংবাদিকতার জনসেবামূলক ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যখন কোনো জরুরি অবস্থা দেখা দেয়, আমরা সংকট থেকে পালিয়ে না গিয়ে বরং তার দিকেই ছুটে যাই।
তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে সবাই নিরাপদে আছেন। আজ রাতে একত্রিত হওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমরা আবারও এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করব।
যুক্তরাজ্য
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান টার্নার বলেছেন, ব্রিটিশ দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের দ্রুত ও পেশাদারী প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, আমরা কৃতজ্ঞ যে প্রেসিডেন্ট ও উপস্থিত সকলে অক্ষত রয়েছেন। আহত কর্মকর্তার জন্য আমাদের শুভকামনা রইল।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অনুষ্ঠানটিতে সহিংসতার দৃশ্য দেখে ‘স্তম্ভিত’ হয়েছেন এবং এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর যে কোনো হামলার কঠোরতম নিন্দা জানাতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া
দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজ মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ‘তাদের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য’ প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আমি এটা শুনে আনন্দিত যে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি এবং হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের সকল অংশগ্রহণকারী নিরাপদে আছেন।
কানাডা
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট লেডি ও সকল অতিথি নিরাপদে থাকায় আমি স্বস্তি পেয়েছি। কোনো গণতন্ত্রেই রাজনৈতিক সহিংসতার স্থান নেই, এবং এই উদ্বেগজনক ঘটনায় যারা বিচলিত হয়েছেন, আমার সমবেদনা তাদের সকলের প্রতি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইউরোপীয় কমিশনের (ইইউ) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন উপস্থিতদের নিরাপত্তার জন্য স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া তিনি পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের ‘দ্রুত পদক্ষেপের’ জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ইইউ প্রেসিডেন্ট বলেন, রাজনীতিতে সহিংসতার কোনো স্থান নেই, কখনোই না।
ইইউর পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কায়া কাল্লাসও নিন্দা জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। মুক্ত গণমাধ্যমকে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠান কখনোই ভয়ের দৃশ্যে পরিণত হওয়া উচিত নয়। তিনি আহত কর্মকর্তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
স্পেন
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায়শই মতবিরোধ থাকা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, আমরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর সংঘটিত হামলার নিন্দা জানাই। সহিংসতা কখনোই সঠিক পথ নয়। গণতন্ত্র, সহাবস্থান ও শান্তির মাধ্যমেই মানবতার অগ্রগতি ঘটবে।
মেক্সিকো
প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম ট্রাম্প ও তার স্ত্রী নিরাপদে থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, আমরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। সহিংসতা কখনোই পথ হতে পারে না।
ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের কর্মকর্তারা দ্রুত মার্কিন নেতাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’র বলেছেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতি কোনো সহনশীলতা নয়। সবশেষ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ এ ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যে, হামলায় গুলিবিদ্ধ মার্কিন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা নিরাপদ আছেন। হারজোগ বলেন, এই জঘন্য হামলার পর পবিত্র ভূমি থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও তার নেতাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টায় হতবাক হয়েছেন। তারা নিরাপদ ও সুস্থ থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
পাকিস্তান
যুদ্ধ চলাকালীন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া পাকিস্তানি নেতারা এই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই উদ্বেগজনক গুলির ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত ও উপস্থিত ব্যক্তিরা নিরাপদ থাকায় স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমার দোয়া ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছে এবং আমি তার অব্যাহত নিরাপত্তা ও মঙ্গল কামনা করি।
উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারও ট্রাম্প, তার স্ত্রী মেলানিয়া ও ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপদে থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দার বলেছেন, আমরা সব ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই, যা কূটনীতির শত্রু এবং যে কোনো সভ্য সমাজে অসহনীয়। প্রেসিডেন্ট ও আমেরিকার জনগণের প্রতি আমাদের শুভকামনা রইল।
লেবানন
লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে লক্ষ্য করে ঘটা দুঃখজনক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ট্রাম্পকে সংহতি জানিয়ে একটি টেলিগ্রাম বার্তা পাঠিয়েছেন।
বার্তাটিতে সকল প্রকার সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কামনা করা হয়েছে।
ভারত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্প, তার স্ত্রী ও জেডি ভ্যান্সের নিরাপদ থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। মোদি বলেন, আমি তাদের অব্যাহত নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি। গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং এর দ্ব্যর্থহীন নিন্দা করা উচিত।
ভেনেজুয়েলা
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ ও কারারুদ্ধ করার পর ক্ষমতা গ্রহণকারী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের ওপর হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের ও ‘করসপন্ডেন্টস ডিনার’-এর সকল অংশগ্রহণকারীকে আমাদের শুভকামনা জানাই। যারা শান্তির মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে, তাদের জন্য সহিংসতা কখনোই কোনো বিকল্প হতে পারে না।