logo

হরমুজ থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ মিলিয়ন ডলারের ড্রোন

হরমুজ থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ মিলিয়ন ডলারের ড্রোন

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে পরমাণু শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রকে। প্রায় ৪৫ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশটির কৌশলের কাছে ধারাবাহিকভাবে ধরাশায়ী হতে হচ্ছে মার্কিন সেনাদের।

এই লজ্জা ঢাকতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাগাড়ম্বর বক্তব্য দিলেও অনেক ক্ষেত্রেই আর্থিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি। এবার যুদ্ধবিরতির মধ্যে সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নজরদারি করতে গিয়ে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক গোয়েন্দা ড্রোন হারাল পেন্টাগন।

মার্কিন নৌবাহিনীর এমকিউ-৪সি ট্রাইটন মডেলের এই ড্রোনটি উড্ডয়নের মাঝপথে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই রাডার থেকে উধাও হয়ে যায়। আর এই ঘটনাটি ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি মিশন সম্পন্ন করে ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলা নৌ বিমান ঘাঁটির উদ্দেশে ফিরছিল ড্রোনটি।

অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ বলছে, ড্রোনটি ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেওয়ার পর ‘৭৭০০’ (সাধারণ জরুরি অবস্থার জন্য) কোড পাঠিয়ে নিচে নামতে শুরু করে। চালকবিহীন বিমানটিকে ‘উধাও’ হওয়ার আগে দ্রুত উচ্চতা হারাতে দেখা যায়।

উধাও হওয়ার আগে ফ্লাইটরাডারে ড্রোনটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

তবে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি গুলি করে নামানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দিন আগে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ড্রোন

এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটির মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা। ড্রোনটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এলাকার জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্রচলিত আকাশযান থেকে ভিন্ন, ট্রাইটন সংকীর্ণ জলপথের ওপর দীর্ঘক্ষণ ধরে কৌশলগত নজরদারি চালাতে সক্ষম। অবিরাম ও বৃহৎ পরিসরের সামুদ্রিক নজরদারির জন্য নির্মিত এবং প্রায়ই পি-৮এ পোসাইডন টহল বিমানের ‘চোখ’ হিসেবে কাজ করে।

ট্রাইটন একমাত্র উচ্চ-উচ্চতা ও দীর্ঘ-সহনশীলতা সম্পন্ন সামুদ্রিক বিমান, যা ৫০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ৭ হাজার ৪০০ নটিক্যাল মাইল পাল্লায় উড়তে সক্ষম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল নাগাদ মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে ২০টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন ছিল এবং আরও সাতটি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি