logo

বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বললেন পুতিন

বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বললেন পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার বার্ষিক বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ন্যায়সঙ্গত বলে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে অভিযোগ করেন, দেশটি পুরো ন্যাটো জোটের সহায়তা ও অস্ত্র পাচ্ছে।

মস্কোর রেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সামরিক কুচকাওয়াজে শত শত সেনাসদস্য ও কয়েকজন বিদেশি নেতার উপস্থিতিতে তিনি এ বক্তব্য দেন।

পুতিন বলেন, আজ বিশেষ সামরিক অভিযানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়োজিত সেনাদের অনুপ্রাণিত করছে বিজয়ী প্রজন্মের মহান আত্মত্যাগ। তারা এমন এক আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, যাকে পুরো ন্যাটো জোট অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে। তবুও আমাদের বীররা এগিয়ে যাচ্ছে।

রাশিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে প্রতিবছর ৯ মে বিজয় দিবস পালন করা হয়। এটি দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসগুলোর একটি।

এবারের আয়োজনে আগের বছরের তুলনায় সামরিক শক্তির প্রদর্শন ছিল অনেক কম। কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মস্কোর কুচকাওয়াজে কোনো সাঁজোয়া যান বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যায়নি। তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য রেড স্কয়ারে মার্চ করেন।

রুশ কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, বর্তমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে এবারের কুচকাওয়াজ ছোট পরিসরে আয়োজন করা হবে।

রুশ এমপি ইভজেনি পোপভ বিবিসিকে বলেছেন, আমাদের ট্যাংক এখন ব্যস্ত। তারা যুদ্ধ করছে। রেড স্কয়ারের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োজন বেশি।

ভাষণের শুরুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন পুতিন। পরে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধকে সেই ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, সামরিক সংবাদদাতা, চিকিৎসক ও শিক্ষকরাও রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। যুদ্ধের কৌশল যেভাবেই বদলাক না কেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছে জনগণই।

পুতিনের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর কামান থেকে একের পর এক গোলা নিক্ষেপ করা হয় এবং সামরিক ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশন করে।

পুতিনের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজেন্ডার লুকাশেঙ্কো। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাওসের প্রেসিডেন্ট থংলুন সিসৌলিথ, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ এবং উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ।

স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোকে কুচকাওয়াজের আগে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে দেখা গেছে।

তবে গত বছরের তুলনায় এবার বিদেশি নেতাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ৮০তম বার্ষিকীর কুচকাওয়াজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভাসহ ২৭ জন বিশ্বনেতা অংশ নিয়েছিলেন।

মস্কোয় কুচকাওয়াজের আগে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

রাশিয়া ও ইউক্রেন বিজয় দিবস উপলক্ষে তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। এর আগে পুতিন ৮-৯ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে ইউক্রেন ৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতির দাবি জানায়।

২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেন অভিযান শুরু করে। যা এখনো চলমান।