logo

আমি এপস্টেইনের ভিকটিম নই: মেলানিয়া ট্রাম্প

আমি এপস্টেইনের ভিকটিম নই: মেলানিয়া ট্রাম্প

দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নজিরবিহীনভাবে সরব হয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিরল বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, আমি এপস্টেইনের ভিকটিম নই, তার সহযোগীও নই। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীদের জন্য কংগ্রেসে প্রকাশ্য শুনানির দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার প্রায় ছয় মিনিটের বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে মিথ্যা, বিদ্বেষপূর্ণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন। 

তিনি বলেন, এপস্টেইন আমাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি। আমাদের পরিচয় হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।

তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্ক সিটি ও পাম বিচের সামাজিক পরিসরে মাঝে মাঝে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও সেটি ছিল স্বাভাবিক সামাজিক যোগাযোগের অংশ। আমি কখনোই এপস্টেইনের বন্ধু ছিলাম না। 

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এপস্টেইন বা তার সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গেও কোনো সম্পর্ক ছিল না।

এপস্টেইনের কর্মকাণ্ডকে ‘ঘৃণ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, তিনি কখনোই এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করিনি, তার ব্যক্তিগত দ্বীপে যাইনি। তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো ধারণাও ছিল না। আমি কোনোভাবেই জড়িত ছিলাম না।

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি মেলানিয়া ট্রাম্প ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের প্রশ্নটিকে সামনে আনেন। তিনি কংগ্রেসকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করা হোক।

তার ভাষায়, প্রত্যেক নারী যদি চান, তাহলে তারা যেন শপথ নিয়ে কংগ্রেসের সামনে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন। তাদের সাক্ষ্য স্থায়ীভাবে সরকারি নথিতে সংরক্ষণ করা উচিত।

এপস্টেইন একা ছিল না ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বিষয়টির আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

মেলানিয়ার এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন এপস্টেইন ইস্যুটি ধীরে ধীরে আলোচনার বাইরে চলে যাচ্ছিল। তার এই অবস্থান আবারও বিষয়টিকে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

বিশেষ করে, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু অংশ যেখানে এপস্টেইন ইস্যুকে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিল, সেখানে মেলানিয়ার এই বক্তব্য ভিন্ন সুর তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মেলানিয়ার এই আহ্বানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ভুক্তভোগীদের জন্য প্রকাশ্য শুনানির দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন।

এদিকে, এপস্টেইনের সহযোগী ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। আর এপস্টেইন নিজে ২০১৯ সালে বিচার চলাকালীন কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

মেলানিয়া ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবেন না। অতীতেও তিনি এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে মামলা করে ক্ষমা ও প্রতিবাদ আদায় করেছেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন