logo
Advertisement

নেপালে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বড় হড়কা বানের শঙ্কা, চীনের সতর্কতা জারি

রয়টার্স
রয়টার্স
নেপালে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বড় হড়কা বানের শঙ্কা, চীনের সতর্কতা জারি
ছবি: রয়টার্স

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়কা বান ও ভূমিধসের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই নতুন করে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধসে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে তৈরি হওয়া একটি বিশাল ব্যারিয়ার লেকে দ্রুত পানি বাড়ছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে লেকটির বাঁধ ভেঙে গেলে ফের ভয়াবহ হড়কা বানের দেখা দিতে পারে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, তিব্বতের গিরং এলাকার কাছে চোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে এই ব্যারিয়ার লেক তৈরি হয়েছে। ধসে পড়া পাথর, মাটি ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ার পর সেখানে পানি জমতে শুরু করে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লেকটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। এরই মধ্যে পানি উপচে পড়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি সেখানে প্রবেশ করতে পারে। এতে লেকটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেকটির পানির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে, যা ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

এরই মধ্যে চীনা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে। উদ্ধার ও তদারকির জন্য বিশেষজ্ঞ এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। লেকটির পানির স্তর ও আশপাশের ভূপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নদীতে ধসে পড়ার পর প্রবল স্রোত নেমে আসে। এতে নেপালের ভাটি অঞ্চলের ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে পানি দ্রুত বেড়ে যায়।

বন্যায় নেপালের রসুয়া ও নুয়াকোটসহ বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। তিব্বতের গিরং এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।

রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল ও তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৩৬০ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তবে উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নতুন ব্যারিয়ার লেকটি ভেঙে গেলে সেখানে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে যেতে পারে। এতে ইতোমধ্যে বন্যায় বিপর্যস্ত নদী উপত্যকায় নতুন করে ভয়াবহ ঢল সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেপাল কর্তৃপক্ষও নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা, উদ্ধারকর্মী ও যাত্রীদের সতর্ক করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ নদী তীর থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিছু উদ্ধারকারী দলও নিরাপত্তার কারণে অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় সরে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলের দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূপ্রকৃতি, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং অতিবৃষ্টির মতো কারণগুলো এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এবারের বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বিশাল হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও মাটির স্রোত নদী ব্যবস্থায় নেমে আসার পর ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়।

ফলে প্রথম দফার বন্যার পানি নেমে গেলেও নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বিপদ এখনো কাটেনি। বরং নতুন ব্যারিয়ার লেকের পানির স্তর বাড়তে থাকায় আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনগুলোতে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ।