এক টেবিলে নিরাপত্তা আলোচনায় ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা নিয়ে এক টেবিলে আলোচনায় বসছে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ ফোনালাপে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গভীর রাতে মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকভ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও ফেডারেল অ্যাকুইজিশন সার্ভিস কমিশনার জোশ গ্রুয়েনবাউমের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক করেন পুতিন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন ইউরি উশাকভ ও বিনিয়োগ দূত কিরিল দিমিত্রিভ।
ক্রেমলিনের সহকারী উশাকভ বলেন, মধ্যরাতের কিছু আগে শুরু হওয়া এই আলোচনা ‘বস্তুনিষ্ঠ, গঠনমূলক ও অত্যন্ত স্পষ্ট’ ছিল। শুক্রবার আবুধাবিতে ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা আলোচনায় মস্কোর পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন রুশ অ্যাডমিরাল ইগর কোস্ত্যুকভ ও কিরিল দিমিত্রিভ। অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে উইটকফের সঙ্গে তারা আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করবেন।
কিন্তু পরবর্তী পদক্ষেপের রূপরেখা দেওয়ার সময় উশাকভ কোনো বড় সাফল্যের খবর জানাতে পারেননি।
গত বছর আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিনের আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই আলোচনার সময় এটি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল যে, অ্যাঙ্কোরেজে সম্মত সূত্র অনুসারে আঞ্চলিক সমস্যা সমাধান না করে, দীর্ঘমেয়াদি নিষ্পত্তির কোনো আশা নেই। পুতিন জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাশিয়া কূটনৈতিক সমাধানে ‘আন্তরিকভাবে আগ্রহী’।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রায় শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে প্রতিটি রাষ্ট্রেই। এই যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতার আগ্রহও দেখিয়েছে ইউরোপসহ যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যুদ্ধ বন্ধে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা পথ প্রশস্ত করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ ফলের দেখা মেলেনি। তবে আবারও নতুন করে বৈঠকে বসার বিষয়টি যতটা না আশার আলো দেখাচ্ছে, তারচেয়ে নতুন কোনো সংকট ঘনীভূত হতে পারে কি না- সেটিও ভাবতে হচ্ছে বিশ্লেষকদের।
কারণ দীর্ঘমেয়াদে চলা এই যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করলেও ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে। অন্যদিকে পুতিনকে ‘ভালো বন্ধু’ দাবি করে আলোচনায় বসার ট্রাম্পের প্রস্তাবকে দ্বিচারিতা হিসেবেই গণ্য করছেন সমরবিদরা। এটি যুদ্ধের অবসানে কূটনীতিতে বড় জট। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উভয় পক্ষের লাখ লাখ সৈন্য ও বেসামরিক হতাহতের খবর ইতোমধ্যেই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স