সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর ইউক্রেনের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরানি ড্রোন থেকে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সহযোগিত চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। রিয়াদ সফররত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, রিয়াদের সঙ্গে নিজেদের ড্রোন প্রতিরক্ষা দক্ষতা ও প্রযুক্তি ভাগাভাগি করবে কিয়েভ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন তার ড্রোন প্রতিরক্ষা দক্ষতা ও প্রযুক্তি ভাগাভাগি করতে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সৌদি আরবও ইরানের কাছ থেকে একই ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্মুখীন হচ্ছে, যা ইউক্রেন চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার কাছ থেকে প্রতিহত করছে।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করতে প্রস্তুত, যাতে জীবন রক্ষা ও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করা যায়।’ এই চুক্তি ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, প্রযুক্তি ভাগাভাগি এবং বিনিয়োগের ভিত্তি স্থাপন করেছে। জেলেনস্কি মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক এবং জ্বালানি বাজারে অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেছেন।
জেলেনস্কি হেলসিঙ্কিতে শীর্ষ নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘মূল বিষয় শুধু নতুন অস্ত্র তৈরি নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং রাডার, বিমান ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তি সমন্বয় করা।’ তিনি বলেন, ইউক্রেন এই অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের সঙ্গে ভাগ করবে, এবং বিনিময়ে চলমান রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সহায়তা চাইবে।
ফরাসি সংবাদপত্র ‘লে মোঁদ’-কে তিনি বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও যেন আমাদের শক্তিশালী করতে পারে। তাদের কাছে এমন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে, যা আমাদের কাছে পর্যাপ্ত নয়। এ কারণেই আমরা চুক্তিতে পৌঁছেছি।’
বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এখনও সবুজ সংকেত পায়নি। কেভার্টাস কোম্পানি জানিয়েছে, সৌদি আরব ও কুয়েত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ইউক্রেনীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টিএএফ ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভলোদিমির জিনোভস্কি বলেছেন, তারা রপ্তানির অনুমোদনের জন্য সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় আছেন, কারণ এটি ইউক্রেনের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী কিছু যুদ্ধাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে, যা ইউক্রেনের জন্য ড্রোন চুক্তিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই অস্ত্রের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়।