কফি হাতে নেতানিয়াহু বললেন, ‘আই অ্যাম ডেড’

অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নিহতের গুঞ্জন উড়িয়ে প্রকাশ্যে ক্যাফেতে দেখা গেল তাকে। কফি হাতে বললেন, ‘আই এম ডেড... ফর কফি’। রোববার (১৫ মার্চ) একটি ক্যাফেতে করা ভিডিও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ করেছেন তিনি।
এতে দেখা যায়, একটি ক্যাফেতে কফি অর্ডার করছেন নেতানিয়াহু। হিব্রুতে রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘আই অ্যাম ডেড... ফর কফি’। তারপর উভয় হাত ক্যামেরার সামনে তুলে ধরে আঙুল গুনতে বলেন, ‘তুমি কি আমার আঙুল গুনতে চাও? দেখো, এখানে, আর এখানে। খুব সুন্দর।’
ভিডিওতে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাইরে যাও, তাজা বাতাস নাও, তবে সুরক্ষিত স্থানের কাছে থেকো।’ তিনি জানান, নাগরিকদের এই স্থিতিস্থাপকতা তাকে, সরকারকে, আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) এবং মোসাদকে শক্তি জোগাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আজও ইরানকে খুব জোরে আঘাত করছি।’
এর আগে, ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম প্রচার করেছিল, ‘নেতানিয়াহু হয় আহত বা নিহত হয়েছেন।’ তবে তারা এই দাবির পক্ষে শক্ত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। এর পর একটি ডিপফেইক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দাবি করা হয়, নেতানিয়াহু আসলেই মারা গেছেন। কারণ যে ভিডিওটি প্রচার হচ্ছে তাতে তার হাতে পাঁচটি নয়, বরং ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে। যদিও পরে ফ্যাক্টচেকে ভিডিও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।
এদিকে রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুকে ‘মৃত্যু পর্যন্ত ধাওয়া’ করার হুমকি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকে, তাহলে আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাকে অনুসরণ করে হত্যা করব।’
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ এখন ১৬তম দিনে পড়েছে। গত মাসে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এর প্রতিশোধে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা শুরু করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
এখন পর্যন্ত যুদ্ধে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই ইরানি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন জানিয়েছে, সংঘাত শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরান জুড়ে ১৫ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় পেন্টাগন প্রায় আড়াই হাজার মেরিনসহ উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি এই অঞ্চলে মোতায়েন করেছে।