২০ বছর পর পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা

দীর্ঘ দুই দশক পর নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলি গণহত্যার দগদগে ক্ষত না সারতেই মধ্য গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টায় গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে। ইসরায়েলি গণহত্যা, যুদ্ধের ভয়াবহ বিভীষিকা ও গভীর জন-হতাশার মধ্যে এবারের ভোটগ্রহণ হচ্ছে। মধ্য গাজার নির্বাচনে বৈধ ভোটার রয়েছেন ৭০ হাজার। অধিকৃত পশ্চিম তীরের নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ।
বিধ্বস্ত এই ছিটমহলে মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাওয়া গাজাবাসীরা ভোট দেওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। দেইর আল-বালাহ ভোটকেন্দ্রে ৫২ বছর বয়সি ভোটার মামদুহ আল-ভাইসি বলেন, একজন ফিলিস্তিনি ও গাজা উপত্যকার সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত যে এই যুদ্ধের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরে আসছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার একটিমাত্র শহরে এই নির্বাচন প্রতীকী। কর্মকর্তারা একে ‘পরীক্ষামূলক’ কার্যক্রম বলেও অভিহিত করতে আগ্রহী। নির্বাচনের জন্য দেইর আল-বালাহকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো, এটিই একমাত্র শহর যেখানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দ্বারা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি।
তবে এই নির্বাচনকে লোক দেখানো বলে প্রতিবেদনে দাবি করেছে আলজাজিরা। কারণ হিসেবে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অধিকৃত এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি অনুমোদন ছাড়া কোনো সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।
বেশির ভাগ প্রার্থীই প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ দলের লোক বা তাদের সমর্থিত। কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছে। কিন্তু ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও অন্যান্য দলগুলো কোনো প্রার্থী দেয়নি। প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চের জরিপ অনুযায়ী, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর উভয় স্থানেই হামাস সবচেয়ে জনপ্রিয় ফিলিস্তিনি দল হিসেবে রয়েছে।
রামাল্লাভিত্তিক কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন তাদের প্রথম ভোট দেইর আল-বালাহতে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রচলিত ভোটার নিবন্ধন পরিচালনা করতে না পারায় তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র ফরিদ তামাল্লাহ বলেছেন, মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিম তীর ও গাজাকে রাজনৈতিকভাবে একটি একক ব্যবস্থা হিসেবে সংযুক্ত করা। তিনি আরও বলেন, দেইর আল-বালাহ ভোটের আগে কমিশন ইসরায়েল বা হামাস কারোর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করেনি এবং গাজায় ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স বা কালির মতো সামগ্রী পাঠাতে পারেনি।
কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যদিও ফিলিস্তিনি ভোটার উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে, অতীতের স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে আঞ্চলিক মানদণ্ডে তা তুলনামূলক বেশি ছিল; গড়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে ছিল।
২০০৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে হামাস জিতে যায়। এরপর এক বছর পর তারা ফাতাহ-নেতৃত্বাধীন পিএ’র কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
নির্বাচনি সংস্কার
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস (৯০) গত বছর পশ্চিমা দাতাদের কিছু দাবি মেনে নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এই সংস্কারগুলোর ফলে দলীয় তালিকার (স্লেট) পরিবর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট দিতে পারবেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতার বয়স কমানো হয়েছে এবং নারী প্রার্থীদের জন্য কোটা বাড়ানো হয়েছে।
জানুয়ারিতে আব্বাসের আরেকটি ডিক্রিতে প্রার্থীদের প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কর্মসূচি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়। পিএ-কে নিন্ত্রয়ণ করে পিএলএ। এই কর্মসূচিতে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সশস্ত্র সংগ্রাম ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা কার্যত হামাস ও অন্যান্য দলগুলোকে কোণঠাসা করে ফেলে।