logo

আবারও মধ্যপ্রাচ্যে ফিরল যুক্তরাষ্ট্রের জেরাল্ড ফোর্ড

আবারও মধ্যপ্রাচ্যে ফিরল যুক্তরাষ্ট্রের জেরাল্ড ফোর্ড

একদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তানে আবারও শান্তি আলোচনার তোড়জোড় চলছে—এর মধ্যে খবর এলো মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) যুক্তরাষ্ট্রের দুজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।

এর মাধ্যমে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করছে। তৃতীয় আরেকটি রণতরিও এই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্মকর্তারা।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড সম্প্রতি পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরে পৌঁছেছে। রণতরিটির সঙ্গে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে দুটি শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস মাহান এবং ইউএসএস উইনস্টন এস. চার্চিল। 

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে বড় দুটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে একটি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং অন্যটি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। তবে অভিযানের সময় বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ায় গত ২৩ মার্চ জেরাল্ড ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। 

বিজনেস ইনসাইডারের খবর জানা যায়, লোহিত সাগরে লম্বা সময় ধরে মোতায়েন থাকার ফলে জাহাজটিতে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। গত ১২ মার্চ জাহাজের লন্ড্রিতে আগুন লেগে দুই নাবিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও শতাধিক নাবিক। ওই সময় জাহাজের টয়লেট ব্যবস্থাসহ আবাসিক অংশের বেশকিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এরপরই মূলত রণতরিটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের সৌদা বে নৌঘাঁটিতে মেরামতের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়। এক মাসের মেরামত শেষে রণতরিটি পুনরায় মোতায়েন করা হলো।

এই অভিযানে ফোর্ড ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে মোতায়েন থাকার নতুন রেকর্ড গড়েছে।

বর্তমানে ফোর্ডের পাশাপাশি আরব সাগরে টহল দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক শক্তিশালী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এ ছাড়া পেন্টাগনের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ নামের তৃতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরিও মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। বর্তমানে এটি দক্ষিণ আফ্রিকা উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একই অঞ্চলে একসঙ্গে তিনটি বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতি বা প্রস্তুতির ঘটনা বিরল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্পর্শকাতর সামরিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই বিশাল নৌ-বহরের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।