ছয় মাসে তিন হাজারের বেশি ভারতীয়কে তাড়িয়েছে কানাডা

চলতি বছরের প্রথম ছয়মাসে প্রায় ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে বিতাড়িত করেছে কানাডা। একই সময়ে ১ হাজার ৫৭৩ জন মেক্সিকান নাগরিককে পেছনে ফেলে দেশটিতে অভিবাসী বিতাড়নের তাকিলায় শীর্ষে উঠে এসেছে ভারত। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালে মোট ৩ হাজার ৭৭৯ জন ভারতীয়কে বিতাড়িত করা হয়েছিল। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধেকের (জানুয়ারি-জুন) পরিসংখ্যান ইতোমধ্যেই গত বছরের মোট সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলেছে। এ ছাড়া বর্তমানে আরও ৭ হাজার ৬৬৯ জন ভারতীয় নাগরিক কানাডা থেকে চূড়ান্ত বিতাড়নের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা যে কোনো দেশের নাগরিকদের তুলনায় সর্বোচ্চ।
চলতি বছরে কানাডা থেকে ভারতীয়দের রেকর্ড সংখ্যক বিতাড়নের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানকেও বড় ব্যবধানে ছাপিয়ে গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ হাজার ২৭৩ জন ভারতীয়কে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। সেই তুলনায় কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো ভারতীয়দের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছর ধরে কানাডায় বিতাড়িতদের তালিকায় মেক্সিকো প্রথম ও ভারত দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এর আগে শেষবার ২০২০ সালে ১ হাজার ৪২৪ জন ভারতীয়কে বিতাড়নের মাধ্যমে তালিকায় শীর্ষে উঠেছিল ভারত। সিবিএসএ জানায়, ২০২১ সালে ৬০৩ জন, ২০২২ সালে ৭৮৬ জন, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
মূলত অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, ভিসা জালিয়াতি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধ অবস্থান ও আশ্রয়ের (রিফিউজি) আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়াই এই বিতাড়নের প্রধান কারণ। পাশাপাশি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা কমাতে কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছে ট্রুডো সরকার।
সিবিএসএ প্রধানত তিনটি আইনি আদেশের মাধ্যমে বিতাড়ন কার্যকর করে থাকে। প্রথমত ডিপার্চার অর্ডার বা ৩০ দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগের নির্দেশ। অমান্য করলে তা ‘ডিপোর্টেশন অর্ডারে’ পরিণত হয়। দ্বিতীয়ত এক্সক্লুশন অর্ডার বা ১ থেকে ৫ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। সবশেষ ডিপোর্টেশন অর্ডার বা লিখিত বিশেষ অনুমতি ছাড়া কানাডায় পুনরায় প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।



