logo

হরমুজ প্রণালিতে পাতা মাইন নিজেরাই খুঁজে পাচ্ছে না ইরান

হরমুজ প্রণালিতে পাতা মাইন নিজেরাই খুঁজে পাচ্ছে না ইরান

হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের বসানো মাইনগুলো এখন আর নিজেরাই খুঁজে পাচ্ছে না ইরান। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে অগোছালোভাবে মাইন বসিয়েছে ইরান। এখন আর এসব মাইন খুঁজে বের করতে না পারায় সেগুলো অপসারণের সক্ষমতাও নেই তাদের। আর এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।

গত মাসে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান ছোট ছোট নৌকার সাহায্যে অগোছালোভাবে পুরো জলপথে মাইন ছড়িয়ে দেয়। শনিবার (১১ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরান সব মাইনের সঠিক অবস্থান লিখে রাখেনি। তাছাড়া সমুদ্রের স্রোতে অনেক মাইন আগের জায়গা থেকে সরে গেছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়ার ফলে দেশটির পক্ষে এখন ওইসব মাইন অপসারণ করা প্রায় অসম্ভব।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা নিজেরাই এখন এই মাইন পরিষ্কার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দুটি অত্যাধুনিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এই অভিযানে অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ বা এক পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের কারণে এই পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ঘাটতির ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যা গত কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও চাপের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রণালিটি বন্ধ থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে, কোনো সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তানের উদ্যোগে শুরু হওয়া দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষ হয়েছে। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরপরই এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাস্ট দ্য নিউজের একটি নিবন্ধ শেয়ার করেন ট্রাম্প। পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে পাল্টা অবরোধ আরোপ করতে পারে। ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল প্রয়োগ করে মার্কিন নৌবাহিনী এখন খুব সহজেই এই প্রণালির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

এর আগে গত শনিবার এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, চীন, জাপান ও জার্মানির মতো দেশগুলোর ওপর ‘করুণা’ করে যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকা থেকে মাইন অপসারণ শুরু করেছে। কারণ ওই দেশগুলোর এই কাজ করার মতো সাহস নেই।

এদিকে ইসলামাবাদে বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাবটি টেবিলে তুলেছি এবং যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছি। এখন দেখার বিষয় ইরান এটি গ্রহণ করে কি না।’

অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদল এই বৈঠককে ‘অবিশ্বাসের পরিবেশে’ হওয়া আলোচনা বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে নমনীয়তার যে দাবি করছে তা ভিত্তিহীন।

পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিই এখন দুই দেশের সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা চলাকালীন মার্কিন কয়েকটি রণতরি প্রণালিটি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে।

ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজ এই জলসীমায় প্রবেশ করলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।