দিল্লির হোটেল যখন পুড়ছিল, মালিক তখন পালাতে ব্যস্ত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির অভিজাত এলাকা মালভিয়া নগরের একটি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট নামের সেই হোটেলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, হোটেলটির মালিক লাভকেশ বাজাজ আগুন লাগার সময় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে বাজাজ স্বীকার করেছেন, হোটেলে আগুন লাগতে দেখলেও তিনি থামেননি; বরং গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে চলে যান। তিনি পরে কোথাও না গিয়ে এলোমেলোভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন বলে জানা গেছে।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ সালে লাভকেশ বাজাজ ভবনটি কিনে সেখানে হোটেল ও গেস্ট হাউস চালু করেন। আগে ভবনটিতে খাদি দোকান ছিল। ভবনটি আগে থেকেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল।
তিনি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট প্রকল্পের আওতায় ছয় কক্ষের অনুমতি নিয়েছিলেন। তবে ভবনের বেসমেন্টসহ বিভিন্ন ফ্লোরে ২৫টি রুম তৈরি করেন।
মালিকানা বাজাজের হাতে থাকলে, পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জাই মিশ্র নামের এক ব্যক্তিকে। হোটেলের লাইসেন্সও তার নামেই ছিল। পুলিশ এখন জাই মিশ্রকেও খুঁজছে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভবনটিতে মাত্র একটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল। জানালাগুলো বন্ধ ছিল ও প্রধান দরজাটি সেন্সরচালিত ছিল। ফলে আগুন লাগার পর দ্রুত বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
হোটেলের বেসমেন্টে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লাগা আগুন দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। বেশির ভাগ অতিথি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং অন্তত ৫৮ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মরদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে গুরুগ্রামের একটি পরিবারের আটজন রয়েছেন। তারা দিল্লিতে চিকিৎসাধীন এক স্বজনকে দেখতে এসে ওই হোটেলে ছিলেন।
পরিবারটি সকালের নাশতা করছিল, তখনই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ওই পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং মালিক লাভকেশ বাজাজকে আজ আদালতে হাজির করা হতে পারে।
