গ্যাসের দাম ১৪০ শতাংশ বেড়েছে যুক্তরাজ্যে

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম লাফিয়ে বাড়ছে। একদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ইরানি হামলার ফলে সরবরাহে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ১৪০ শতাংশ।
এর ফলে দেশটিতে গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম (২ দশমিক ৮ ঘনমিটার) ১৭১ দশমিক ৩৪ পেন্স বা ২ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর থেকে দেশটিতে গ্যাসের দাম আর কখনও এতটা বাড়েনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র। গ্যাসক্ষেত্রটির একটি অংশ কাতারের।
সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ক্ষেত্রে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন লেগেছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাসের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাজ্য জ্বালানির বিষয়ে এখনও আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কাতারসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ থেকে দেশটিতে অধিকাংশ গ্যাস যায়।
এদিকে কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং শিল্পোৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিল্প তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ তার মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশই কাতার থেকে সংগ্রহ করে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা আরও বেশি, প্রায় ৯৯ শতাংশ। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ভারত তার প্রয়োজনীয় এলএনজির ৪০ শতাংশের বেশি আমদানি করে কাতার থেকে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ উভয়েরই এলএনজির মজুদ সীমিত। আনুমানিক মাত্র এক বা দুই সপ্তাহের জন্য পর্যাপ্ত।