ইরানের সঙ্গে ৪০ দিন যুদ্ধে ৩৬ দিনই গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে, তখন এক ভয়াবহ তথ্য সামনে এনেছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রকাশিত তাদের একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৪০ দিন ইরান যুদ্ধের মধ্যে বিশ্ববাসীর নজর যখন অন্যদিকে ছিল, তখন গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
গাজায় ছয় মাস আগে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও বাস্তবে ইসরায়েল তা অসংখ্য বার লঙ্ঘন করেছে। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ভেতরে গত ৪০ দিনের মধ্যে ৩৬ দিনই গাজায় বোমা হামলা চালিয়েছে দেশটি। মাত্র ৪ দিন কোনো হামলা বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১০৭ জন নিহত এবং ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত বুধবার আলজাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশওয়াশ গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই গাজার সব সীমান্তপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিদিন ৫০ জন রোগীকে গাজার বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার কথা থাকলেও গত ৪০ দিনে মাত্র ৮ শতাংশ রোগীকে বাইরে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গাজায় চার হাজার শিশুসহ ১৮ হাজার ৫০০ রোগীর উপত্যকার বাইরে গিয়ে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যতগুলো ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল, তার মাত্র ২০ শতাংশ ট্রাক গাজা সিটিতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল।
সংবাদমাধ্যম জানায়, গাজার জনসংখ্যার ১০ শতাংশ এখন পর্যন্ত হতাহত হয়েছে। মোট নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭২ হাজার, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখ ৭২ হাজার মানুষ।
বর্তমানে গাজার ৭৭ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন এবং প্রায় দুই হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে রয়েছেন। আটা, জ্বালানি ও নগদ অর্থের তীব্র সংকটে উপত্যকাজুড়ে রুটির অভাব এখন এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে গাজায় আটাসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে অধিকাংশ রুটির বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে। হাতেগোনা যে কয়েকটি চালু আছে, সেখানে এক টুকরো রুটির জন্য ক্ষুধার্ত মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া উপত্যকাজুড়ে নগদ অর্থের সংকটে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও এখন তলানিতে।
একই সময়ে লেবাননেও আগ্রাসন বাড়িয়েছে ইসরায়েল। গত বুধবার একদিনেই সেখানে ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন, যা চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও হুমকির মুখে ফেলেছে।