ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণায় নীরব কেন ইরান

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। তবে ইরানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাাড়নোর ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। তেহরানের এই নীরবতাকে সাধারণ কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না যুদ্ধ পর্বেক্ষকরা। বরং ইরানি কর্মকর্তাদের একটি ‘সতর্ক পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) তেহরান থেকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক আলমিগদাদ আলরুহাইদ এক প্রতিবেদনে ইরানি কর্মকর্তাদের সতর্ক অবস্থানের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।
প্রতিবেদনে এই প্রতিবেদক বলেন, ইরানি কর্মকর্তাদের নীরবতা একটি সতর্ক পদক্ষেপ। কারণ তারা এই পুরো বিষয়টি একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছেন। গত কয়েক বছরের ঐতিহাসিক আলোচনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম অবিশ্বাসের একটি ধারা হিসেবে দেখছেন তারা।
কর্মকর্তারা বলছেন, এই অবিশ্বাসের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দফার আলোচনায় তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা শর্তগুলো রক্ষা বা পূরণ করার ব্যাপারে কোনো দায়বদ্ধতা দেখায়নি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানি কর্মকর্তারা কেবল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ভাবছেন না; তারা পুরো বিষয়টির ওপর নজর দিচ্ছেন।
তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন কীভাবে তাদের শর্তগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, অথবা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো আলোচনা হলে কীভাবে আরও অগ্রসর হওয়া যায়। ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, যদি আগামীতে সেই বিশ্বাস তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে তারা যেকোনো ধরনের আলোচনার জন্য প্রস্তুত।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মধ্যরাতে ইরানে অনির্দিষ্ঠকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওমান উপসাগরে ও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এরপর আরেক পোস্টে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চায় না। তারা এই প্রণালি খোলা রাখতে চায়, যাতে তারা দিনে ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলার আয় করতে পারে (যা প্রণালিটি বন্ধ থাকলে তারা হারাচ্ছে!)। তার মতে, কেবল মুখ রক্ষার জন্য ইরান বলছে, তারা এই প্রণালি বন্ধ করতে চায়। কারণ আমি এটি পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছি।