Advertisement

কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত বেড়ে তিন গুণ, মৃত্যু ১৭৭

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত বেড়ে তিন গুণ, মৃত্যু ১৭৭
কঙ্গোর স্বাস্থ্যকর্মীরা হাসপাতালে চিকিৎসাকর্মীরা জীবাণুনাশক নিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইবোলা ভাইরাস। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে ইবোলা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে। একইসঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৭ জনে।

Advertisement

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রথম দিকের প্রতিবেদনে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৬ জন ও মৃতের সংখ্যা ছিল ৬৫ জন। এই প্রতিবেদনের এক সপ্তাহ পর দেখা গেছে, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫০ জনে। একইসঙ্গে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৭ জনে।

পরিস্থিতি অতিমাত্রায় খারাপের দিকে যাওয়ায় দেশটিতে ইবোলার ঝুঁকিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ডব্লিউএইচও। এই পরিস্থিতিকে গভীর উদ্বেগজনক বলেছেন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঙ্গোর ইতুরির প্রদেশের ওয়ামপারা এলাকায় একটি হাসপাতালের বাইরে ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের সময় চিকিৎসকদের তাবু এবং চিকিৎসা সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেয় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা। হাসপাতালে মারা যাওয়া এক স্থানীয় বাসিন্দার মরদেহ নিয়ম অনুযায়ী স্বজনদের হাতে তুলে না দেওয়ায় এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে মরদেহ কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ প্রটোকল মেনে বিশেষ প্রক্রিয়ায় দাফন করা বাধ্যতামূলক।

এই ঘটনার পর ড. টেড্রোস সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় জনগণের মধ্যে বাইরের কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে এই সংকট মোকাবিলার কাজ কঠিন হচ্ছে। আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করা এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

কঙ্গোর স্বাস্থ্যকর্মীরা ইবোলা রোগীকে একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
কঙ্গোর স্বাস্থ্যকর্মীরা ইবোলা রোগীকে একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

ডিআরসিতে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ড. অ্যান অ্যানসিয়া এই হামলার ভিত্তিতে অনুমান করছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কঙ্গোর সামগ্রিক কার্যক্রম অতিমাত্রায় ঝুঁকিতে পড়বে।

মূলত আক্রান্তদের সাধারণ রোগী বা সুস্থদের থেকে আলাদা রাখতে এই কেন্দ্রটি করা হয়েছিল। তবে ড. অ্যান আশা প্রকাশ করেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি আবার সচল করা যাবে।

স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, ইবোলার বর্তমান ধরন (স্ট্রেন) বুন্দিবুগিও ভাইরাসের কারণে ছড়াচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাইরাসের এই ধরনটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো অনুমোদিত কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) এখনও তৈরি হয়নি।

আক্রান্তদের বেশির ভাগই ইতুরির প্রদেশের বাসিন্দা হলেও দেশের অন্যান্য প্রান্তে এবং প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও দুটি রোগী পাওয়ার কথা জানা গেছে।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্ত রোগী বাড়ার বিষয়টি বিপরীতভাবে ‘ভালো লক্ষণ’ হতে পারে। কারণ, এর ফলে উন্নত রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে। ল্যাবে পরীক্ষার নমুনার পজিটিভ আসার হার সামান্য কমে যাওয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, সম্ভাব্য উপসর্গ থাকা আরও বেশি মানুষকে নজরদারিতে আনা সম্ভব হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে কর্মরত মানবিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, যথাযথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তাদের কাছে এখনও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ডিআরসিতে কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. আমাদু বোকুম বলেন, গত বছরের ত্রাণ বা অর্থায়ন কাটছাটের কারণে সরঞ্জামের অভাবে পুরো ব্যবস্থাটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারছিল না। পাশাপাশি কর্মী সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে আক্রান্তদের তথ্য সংগ্রহ এবং কনটাক্ট ট্রেসিংয়ের (যোগাযোগ চিহ্নিতকরণ) মতো কঠোর পরিশ্রমসাধ্য কাজগুলো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গারের কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলি দ্রুয়েত বলেন, মাঠপর্যায়ে যত দ্রুত সম্ভব কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সবাই কাজ করলেও তা এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। কঙ্গোতে বর্তমানে যে জরুরি অবস্থা চলছে, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এখনও ঠিক সেই পর্যায়ের হয়ে ওঠেনি।

তবে এর মধ্যেও আশার বাণী শুনিয়েছে ডব্লিউএইচও। এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির বিজ্ঞানীরা ‘ওবেলডিসিভির’ নামের একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ চিহ্নিত করেছেন। এই ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে বুন্দিবুগিও আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ইবোলায় আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করতে সক্ষম হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিজ্ঞানীরা এই ওষুধের ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কাজ শুরু করেছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান