logo
Advertisement

হিন্দু-মুসলমান বিভেদের রাজনীতি বন্ধ করা দরকার: অভিজিৎ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
হিন্দু-মুসলমান বিভেদের রাজনীতি বন্ধ করা দরকার: অভিজিৎ
সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে। ছবি: সংগৃহীত

ধর্মের নামে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার নোংরা রাজনীতি বন্ধ হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

Advertisement

শনিবার (৬ জুন) দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে এভাবে সমালোচনা করেছেন অনলাইন জগতে আলোড়ন তোলা সিজেপির এই প্রতিষ্ঠাতা যুবনেতা।

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় অভিজিৎ বলেন, গত ১২ বছর ধরে দেশে চলতে থাকা এই ধর্মের রাজনীতি সাধারণ মানুষের কোনো উপকার করতে পারেনি। যুবসমাজকেও কোনো চাকরি দিতে পারেনি।

সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থায় নিট ও সিবিএসই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার নয়াদিল্লির রাস্তায় নামেন হাজার হাজার ভারতীয় যুবক ও সাধারণ মানুষ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় অভিজিৎ দিপকে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক শঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যখন আমেরিকা যাচ্ছিলাম, ছেলে দূরে চলে যাচ্ছে দেখে তখন আমার মা কেঁদেছিলেন। কিন্তু আমি যখন দেশে ফিরে আসছিলাম, তখন আমার মা ও বোন আরও বেশি কেঁদেছেন। গত দুদিন ধরে তারা ভয়ে ছিলেন যে, আমি ভারতে ফিরলে সরকার আমাকে জেলে পুরে দেবে।’

তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই ভয় আজ শুধু তার মায়ের নয়, দেশের প্রতিটি মায়ের। সরকারের ভুল নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে সন্তানকে জেলে যেতে হবে—এই ভয়ের পরিবেশ ভাঙার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্লোগান তোলেন, ‘আমরা আর ভয় পাব না।’

এই আন্দোলনের সূত্রপাত বেশ নাটকীয়। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের তরুণ সমাজকে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করার পর তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিজিৎ দিপকে। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অনলাইন আন্দোলন শুরু করেন। একই সময়ে দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশে ফিরে সরাসরি আন্দোলনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন এই যুব আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিখ্যাত পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক। এ ছাড়াও দেশের প্রধান প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও এই ছাত্র-যুব আন্দোলনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সম্পাদক রোহিত পাওয়ার এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, তরুণদের এই অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, কেন্দ্র সরকারের ভুল নীতি ও পরীক্ষা ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে যুবসমাজের মনে কতটা ক্ষোভ জমেছে।

অন্যদিকে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে ফেসবুক পোস্টে মোদি সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এই যুবকেরা তীব্র গরমের মধ্যে রাস্তায় নেমে লড়াই করছে। তাদের ন্যায়বিচার না দিয়ে ‘তেলাপোকা’ বলে অপমান করা চরম অন্যায়। সরকারকে এই যুবকদের দাবি মানতে হবে। যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে—‘তেলাপোকা’ ভেবে তরুণদের যেন কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন বা খাটো করে না দেখা হয়।