logo

ইরানে হামলা করায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল স্পেন

ইরানে হামলা করায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল স্পেন

গাজায় চলমান গণহত্যা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি নতুন সামরিক আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সবথেকে কঠোর অবস্থান নিল মাদ্রিদ।

বুধবার (১১ মার্চ) স্পেনের সরকারি গেজেটে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাদ্যম আল-জাজিরা। 

স্পেন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত আনা মারিয়া সালোমন পেরেজকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তেল আবিবে স্পেনের দূতাবাস একজন চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। গত ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত স্প্যানিশ মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত ইরান ও গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই এই চরম কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল দেশটি।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কট্টর সমালোচক। ইরান ও গাজায় পরিচালিত হামলাকে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্পেন কোনোভাবেই এই যুদ্ধ সমর্থন করে না। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই—এই তত্ত্ব ভুল।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা যুদ্ধের বিপক্ষে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইউরোপের হাতেগোনা বামপন্থী নেতাদের মধ্যে একজন, যিনি ইরান ও গাজায় মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণকে "অন্যায্য" বলে নিন্দা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে মাদ্রিদের অবস্থান হলো "যুদ্ধের বিরুদ্ধে"। সানচেজের সরকার ধারাবাহিকভাবে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আসছে। 

উল্লেখ্য যে, কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক কমানোই নয়, স্পেন ইতোমধ্যে ইসরায়েলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। গত অক্টোবর মাসে দেশটির পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, ইসরায়েলের কাছে কোনো প্রকার অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গাজায় সংঘটিত অপরাধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।