ভারতের সুখোই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২ পাইলট নিহত

প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভারতীয় বিমানবাহিনীর শক্তিশালী যুদ্ধবিমান সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই আসামের দুর্গম পাহাড়ে আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘঠেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ককপিটে থাকা দুই দক্ষ পাইলট। তারা হলেন—স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গকর।
শুক্রবার (৬ মার্চ) এক প্রতিবেদেনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
বিমানবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আসামের জোড়হাট বিমানঘাঁটি থেকে একটি রুটিন প্রশিক্ষণ মিশনে উড্ডয়ন করেছিল রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধবিমানটি। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই রাত ৭টা ৪২ মিনিটে রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। উদ্ধার অভিযানে, জোড়হাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং জেলার এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন এবং পাহাড়ের চূড়ায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান।
দুই পাইলটের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, সমগ্র বিমানবাহিনী শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে রয়েছে। আমরা তাদের অকাল প্রয়াণে গভীরভাবে মর্মাহত।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নিহত পাইলটদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক্স-এ লিখেছেন, জাতির প্রতি তাদের নিঃস্বার্থ সেবা ও বীরত্ব চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা হবে।
বারবার দুর্ঘটনার কবলে সুখোই
সুখোই এসইউ–৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানটি রাশিয়ার তৈরি সুখোই সিরিজের উন্নত সংস্করণ, যা ১৯৮০–এর দশকে তৈরি মূল নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই যুদ্ধবিমানকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রাশিয়ায় তৈরি দুই আসনবিশিষ্ট এসব যুদ্ধবিমান প্রথমবার ভারতের হাতে আসে ১৯৯৭ সালে। বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড এসব বিমান উৎপাদন করছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে বর্তমানে ২৫০টির বেশি সুখোই এসইউ–৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান রয়েছে। ভারতের আকাশসীমায় পাহারারত প্রধান স্তম্ভ এই সুখোই জেটের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে।
২০২৪ সালের জুনে নাসিকে এবং ২০২৩ সালের শুরুতে গোয়ালিয়রেও একই ধরনের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।