logo

পশ্চিম এশিয়ার আরেক প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের

পশ্চিম এশিয়ার আরেক প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের

ইরানের খারগ দ্বীপকে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে তাহলে হরমুজ প্রণালির মতো পশ্চিম এশিয়ার আরেকটি জলপথ (প্রণালি) বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা তাসনিম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরানের দ্বীপগুলোতে অথবা ইরান ভূখণ্ডের কোথাও যদি শত্রুপক্ষ হামলা চালানোর চেষ্টা করে কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে যদি কোনো রকম পদক্ষেপ করার চেষ্টা করে, তাহলে এবার হরমুজ প্রণালির মতো আরও একটি জলপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

এতে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল খারগ দ্বীপকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরান যে তাদের পরিকল্পনাকে সফল হতে দেবে না, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছে। খারগের দিকে চোখ তুলে তাকালে, পশ্চিম এশিয়ার আরও একটি জলপথকে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

পাশাপাশি এই হুমকিও দেওয়া হয়েছে, যদি ওই জলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে শত্রুপক্ষের জন্য সেটা হবে বড় চমক। শুধু তা-ই নয়, যদি ইরানকে ওই পথে হাঁটতে বাধ্য করা হয়, তাহলে শত্রুপক্ষকে বড় মাসুল গুনতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।

ইরানের আধা-সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের খারগ দ্বীপকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এই কাজ করার চেষ্টা চালাতে পারে তারা। শত্রুপক্ষের এই পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করতে তাদের সেনাও প্রস্তুত।

পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি হলো বাব-আল-মান্দেব। সূত্রমতে, ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ এই প্রণালি বন্ধ করার জন্য প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্র উপকূলে যেসব তেলখনি আছে, সেসব থেকে উৎপদিত তেলের ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব দিয়েই পরিবহন করা হয়। বর্তমানে দিনে প্রায় ৮৮ লাখ ব্যারেল খনিজ তেল পরিবাহিত হয়।

এই সরু প্রণালিটি দৈর্ঘ্য ১৩০ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৪০ কিলোমিটার। কোনো কোনো জায়গায় মাত্র ৩০-৩৩ কিলোমিটার চওড়া। বাব-আল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই প্রণালিটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অপরদিকে সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণও করে।

বাব-আল-মান্দেবের উল্টো দিকে রয়েছে ‘আফ্রিকার শিং’ বা ‘হর্ন অব অফ্রিকা’। এককথায় সরু সামুদ্রিক জলপথটি আরব উপদ্বীপ থেকে জিবুতি, ইরিত্রিয়া এবং সোমালিয়াকে পৃথক করেছে। লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করে এই প্রণালি।

সামরিক সংঘাতের আবহে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তরল সোনার দর অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে। তবে হরমুজের মতো এই প্রণালিতে ইরানের সরাসরি কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা এই অঞ্চলে যথেষ্ট সক্রিয়। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, হুথিদের কাজে লাগিয়ে এই প্রণালিকেও অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে ইরান।

ইরানের আধা সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হুথিরা ইতোমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতে যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বাব-আল-মান্দেবকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তেহরানকে সহযোগিতার বার্তাও দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই জলপথকেই অবরুদ্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিল ইরান।