logo

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, মঙ্গলবার যা যা ঘটেছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, মঙ্গলবার যা যা ঘটেছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। চলমান এই যুদ্ধ বন্ধে এখনও সমাধানের পথ খোলেনি। উল্টো হামলার তীব্রতা দিনদিন বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় যুদ্ধের চতুর্থ দিনে (মঙ্গলবার) বিশ্বজুড়ে অনেক ঘটনা ঘটেছে। একনজরে দেখে দিন সেসব ঘটনা-

১. ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। সেই সঙ্গে ইরানের অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

২. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে হামলা চালানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় ৭৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

৩. সাইপ্রাসে নিজেদের সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হওয়ার পর এখন ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে দেশটির প্রতিরক্ষাসূত্রে জানা যাচ্ছে।

৪. যুক্তরাজ্য ‘সাহায্য করছে না’ এবং সম্পর্ক ‘আগের মতো নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৫. কুয়েতে মার্কিন একটি সামরিক স্থাপনায় চালানো ইরানের হামলায় অন্তত ছয় আমেরিকান সেনা নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

৬. ওমরাহ করতে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় যাওয়া ইরানিদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি।

৭. ইরানের হামলায় বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

৮. লেবাননের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ইসরায়েলের অপরাধমূলক আগ্রাসনের জবাবে- তিনটি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

৯. হেজবুল্লাহকে দমনে লেবাননের অতিরিক্ত কৌশলগত এলাকা দখল এবং স্থলভাগে অগ্রসর হওয়ার জন্য ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফকে অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

১০. যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর তাদের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশ অবিলম্বে ছেড়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে– বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন।

১১. কুয়েত, সৌদি আরব ও বৈরুতে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ মার্কিন দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা।

১২. মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে বা মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে এমন সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানোর তথ্য জানিয়েছে কাতার।

১৩. সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার পর ফুজাইরাহ তেলে টার্মিনালের ওপরে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ফুজাইরাহ মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন ধ্বংস করার পর সেগুলোর একটি ধ্বংসাবশেষ ওই তেলের টার্মিনালের ওপর পড়ে আগুন লাগে।

১৪. ইরান সৌদি আরবে আবারও হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত তেলসমৃদ্ধ শহর দাহরানে ড্রোন হামলার হুমকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। শহরটি সৌদি আরবের তেল শিল্পের প্রধান কেন্দ্র।

১৫. ইরানের ওপর হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে থামানো গেলেই যুদ্ধ বন্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

১৬. ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত চারদিনে ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

১৭. চলমান যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটকেপড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের উদ্ধারে চার্টার ফ্লাইট পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য।

১৮. ওমানের দুকম বন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাঙ্ক ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।

১৯. ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর প্রথমবারের মতো খুলে দেওয়া হল গাজা ক্রসিং।

২০. মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সব কিছু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তাদের এখন নৌ বাহিনী নেই, বিমান বাহিনী নেই, আকাশে বিমান শনাক্ত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে। কিন্তু এখন তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবেন না বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বহু শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়।

হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে তেহরান।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৭০০- এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।

১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।