সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলা

ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সাইপ্রাসের অ্যাক্রোটিরিতে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। এটি ড্রোন হামলা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। হামলাটি মধ্যরাতের দিকে হয়েছে। কেউ হতাহত হয়নি।
অ্যাক্রোটিরি ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্যের প্রধান সামরিক স্থাপনা।
এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিতে যুক্তরাষ্ট্র অনুরোধ জানিয়েছিল। যুক্তরাজ্য তাতে সম্মত হয়েছে।
স্থানীয় সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৩০টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়।
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। কিন্তু খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে তেহরান।
চলমান এই সংঘাত বন্ধে এখনও সমাধানের পথ খোলেনি। উল্টো হামলার তীব্রতা দিনদিন বাড়ছে। পাল্টাপাল্টিা হুমকি-ধমকি চলছে। এরমধ্যেই ইরান জানিয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসবে না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।