যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ২০ বছর হলেও ইরান রাজি পাঁচ বছরে

পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় ‘ইসলামাবাদ সংলাপ’। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে ওয়াশিংটনে এত অল্প সময়ে রাজি নয়। তাদের দাব, কমপক্ষে ২০ বছর এই কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুইজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদন অনুসারে, কর্মকর্তারা জানান, ইরান সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত থাকার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তেহরান যেন তার ভূখণ্ড থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফরের বিস্তারিত তথ্য ফাঁস হলে বিষয়টির সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানান, ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নয়। পরিবর্তে, যুক্তরাষ্ট্র সমস্ত পারমাণবিক কার্যক্রমের ২০ বছরের জন্য ‘স্থগিতকরণ’-এর প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে ইরান দাবি করতে পারবে যে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি অনুযায়ী, তারা নিজেদের পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের অধিকার স্থায়ীভাবে ত্যাগ করেনি।
ওই কর্মকর্তারা জানান, এর জবাবে ইরান পাঁচ বছর পর্যন্ত পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাবটি পুনরায় দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় এক ব্যর্থ আলোচনার সময় ইরান প্রায় একই ধরনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছিল। এর কয়েক দিন পরেই তিনি ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দেন।
ইলামাবাদ সংলাপে আরও বেশ কিছু বিষয় প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা, হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের সমর্থন বন্ধ করা। কিন্তু ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করতে, তার বিশাল পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে এবং দেশের বাইরে জ্বালানির মজুত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোই সবসময় মূল বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুতরাং, পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার সময়কাল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে যে তর্কবিতর্ক চলছে, তা থেকে বোঝা যায়, একটি চুক্তির যথেষ্ট সুযোগ থাকতে পারে। একইসঙ্গে সোমবার এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে যে, আগামী দিনগুলোতে আলোচকরা আবারও বৈঠকে বসতে পারেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনো বৈঠক চূড়ান্ত হয়নি, তবে সশরীরে আলোচনার আরেকটি পর্ব নিয়ে আলোচনা চলছে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের জন্য এই ঝুঁকিও রয়েছে যে, যে কোনো চুক্তিই হোক না কেন, তা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অনুরূপ হতে পারে। ওই চুক্তি থেকে প্রেসিডেন্ট তিন বছর পর বেরিয়ে যান। তখন তিনি বলেন, একতরফা চুক্তিটি কখনোই করা উচিত ছিল না।
গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এটি গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম, যেখানে মুখোমুখি বৈঠকে অংশ নেন উভয়পক্ষের প্রতিনিধিদল। তাছাড়া এই আলোচনাটি ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের। যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার দেশের হয়ে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।