Advertisement

আফগান সীমান্তের কাছে ড্রোন হামলা, পাকিস্তানের ১০ পুলিশ সদস্য নিহত

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আফগান সীমান্তের কাছে ড্রোন হামলা, পাকিস্তানের ১০ পুলিশ সদস্য নিহত
২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর বান্নুতে টহলরত নিরাপত্তা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ড্রোন হামলা ও অতর্কিত আক্রমণে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রদেশটির আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি দ্বিতীয় বড় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।

বুধবার (২৯ জুলাই) গভীর রাতে আফগান সীমান্তবর্তী হাঙ্গু জেলায় এই হামলাটি ঘটে। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটি ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।

হামলার বিষয়ে প্রাদেশিক পুলিশ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীরা আধুনিক কোয়াডকপ্টার ড্রোনে হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) সংযুক্ত করে তা দিয়ে প্রথমে পুলিশের ওই চেকপোস্টে সিরিজ বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরবর্তীতে অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ নিশ্চিত করেছেন যে, কয়েক ঘণ্টার তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে সাম্প্রতিক এই হামলার দায় কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

তবে এর মাত্র কয়েক দিন আগেই নিকটবর্তী টাংক জেলায় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্যসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন।

ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। ২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তানি রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে এই গোষ্ঠীটি।

অন্যদিকে সীমান্তে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে চরম রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে নাশকতা, হামলা পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য আফগানিস্তানের ভূমিকে ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ইসলামাবাদের এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে। তাদের মতে, সীমান্ত সংঘাত ও জেনুইন সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের সম্পূর্ণ নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমস্যা।

সূত্র: রয়টার্স