ওয়াশিংটনে কেন যাচ্ছেন নেতানিয়াহু

ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা যখন নতুন মোড় নিচ্ছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঘোষণা দিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওমানের রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ঠিক একদিন পরই এই সফরের ঘোষণা দেয় নেতানিয়াহুর কার্যালয়। ওই বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে বলে তেহরান দাবি করলেও ট্রাম্পের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। ফলে সমাধানের পরিবর্তে সংকট বৃদ্ধির আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ও মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহেই ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন তিনি।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। পরদিন সকালে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী বা প্রক্সিদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করাও আলোচনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় উদ্বিগ্ন তেল আবিব। নেতানিয়াহুর এই কড়া অবস্থান সেই উদ্বেগেরই প্রকাশ। এই সফরটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গত এক বছরে নেতানিয়াহুর সপ্তম সফর। সফর শেষে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তার ইসরায়েলে ফেরার কথা রয়েছে।
সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নেতানিয়াহুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমের টিশলার। সামরিক বার্তা হিসেবেই এই উপস্থিতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, ওমানে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনার একদিন পরই ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পরিদর্শন করেন।
গত জুনে ইসরায়েল-ইরান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ওয়াশিংটন ও তেহরান সরাসরি কিংবা পরোক্ষ আলোচনার টেবিলে বসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হতে পারে। তার মতে, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
তবে অনড় অবস্থানে ইসরায়েল। পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের পাশাপাশি ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত না হলে, কোনো চুক্তিই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে এই কূটনৈতিক সমীকরণ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, ওয়াইনেট, আল-জাজিরা