logo

হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় বিস্মিত ইসরায়েল

হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় বিস্মিত ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান ও বিমান হামলা জোরদারের পর হিজবুল্লাহর ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর হামলার তীব্রতা ও কৌশলগত পরিবর্তনে বিস্মিত হয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত স্থল অভিযান সম্প্রসারণের পর হিজবুল্লাহ যেভাবে হামলার ধরন বদলেছে এবং আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে, তা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যাশার বাইরে ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলে একের পর এক সতর্কসংকেত, রকেট হামলা ও প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

হিজবুল্লাহ এই সপ্তাহে ইসরায়েলের হাইফা, নাহারিয়া, আক্রে, সাফেদ ও কিরিয়াত শমোনা এলাকায় একাধিক রকেট হামলা চালায়। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও চালানো হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুধু শনিবারেই লেবানন থেকে ২৫টির বেশি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।

মার্চে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম সাফেদ ও কারমিয়েলসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বারবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম এ সময়কে সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সীমান্ত সংঘাতের একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চলের আরও গভীরে প্রবেশ করেছে সেনারা।

পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে আপার গ্যালিলি অঞ্চলের কিছু এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জনসমাগম ও কর্মস্থল পরিচালনায় নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলার আগে দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও স্থল অভিযান বাড়িয়েছিল ইসরায়েল। দেশটির যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ, দেইর আল-জাহরানি, দিব্বিনসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালায়। একই সময়ে নাবাতিয়েহ প্রদেশের ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গেও ইসরায়েলি পতাকা উড়তে গেছে।

লেবাননের গণমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আবাসিক এলাকায় হামলার শিকার বেসামরিক মানুষও রয়েছেন।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৭১ জন নিহত, ১০ হাজার ১২৯ জনের বেশি আহত ও প্রায় ১৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হলেও লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের দাবি, সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহকে আরও দূরে সরিয়ে নেওয়া এবং উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে হামলার ঝুঁকি কমাতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বলছে, ইসরায়েলের চলমান সামরিক আগ্রাসন ও সীমান্ত লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই তাদের হামলা পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বৈধ প্রতিরোধ।