logo

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন: ডেমোক্র্যাটদের একের পর এক জয়, নজর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন: ডেমোক্র্যাটদের একের পর এক জয়, নজর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে
নির্বাচনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোট দিচ্ছেন। ছবি: গ্রিনভাইল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। বিশেষ করে জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ভার্জিনিয়ার সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় দলটির জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোট দেন দেশটির নাগরিকেরা। নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসনের সবগুলো এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে।

বিবিসি, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এবিসি নিউজ এবং দ্য গার্ডিয়ানের লাইভ নির্বাচনী আপডেট অনুযায়ী, ভোট গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছে। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে এখনো বেশ কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফল অপেক্ষমাণ।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের গুরুত্বপূর্ণ জয়

নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেট আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর রয় কুপার। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। গত এক দশকে এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটি থেকে একজন ডেমোক্র্যাট সিনেট আসনে জয় পেলেন।

জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

নিউ হ্যাম্পশায়ারে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাস রিপাবলিকান জন সুনুনুকে হারিয়ে সিনেট আসনটি ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে ফ্লোরিডার বিশেষ সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি মুডি জয় পেয়েছেন। ফলে সব অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের ফল দেখা যাচ্ছে না।

প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি

প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেও ডেমোক্র্যাটরা সাফল্য পেয়েছে। ফ্লোরিডার ২০তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেবি ওয়াসারম্যান শুলৎজ। এ নিয়ে তিনি টানা ১২তম মেয়াদে নির্বাচিত হলেন।

নর্থ ক্যারোলাইনার পশ্চিমাঞ্চলেও রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ডেমোক্র্যাটদের হাতে এসেছে।

তবে টেক্সাস, মিশিগান, ওহাইও, আইওয়া ও উইসকনসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি আসনে ভোট গণনা ও ফল নির্ধারণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এসব আসনের ফল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতি ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। পাশাপাশি গণতন্ত্রের অবস্থা, অভিবাসননীতি এবং স্বাস্থ্যসেবাও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু ছিল।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত প্রাথমিক ভোটার জরিপ অনুযায়ী:

৩৯ শতাংশ ভোটারের কাছে অর্থনীতি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

৩২ শতাংশ ভোটার গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

১৪ শতাংশের কাছে অভিবাসন ছিল প্রধান ইস্যু।

৮ শতাংশ ভোটার স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন।

এ ছাড়া প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় কংগ্রেস যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন?

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের নীতির ওপর ভোটারদের মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি, সরকারি ব্যয়, অভিবাসন কার্যক্রম এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে তদন্ত ও শুনানির সুযোগ পাবে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সুবিধা বজায় থাকবে।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে ভোটারদের মধ্যে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এখনো চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষা

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনী বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সব আসনের ফল জানতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার ডাকযোগে আসা ব্যালট গণনা এবং আলাস্কা ও মেইনের বিশেষ ভোট গণনা পদ্ধতির কারণে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।

এ কারণে প্রাথমিক ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য দেখা গেলেও এখনই কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে বাকি আসনগুলোর ফল প্রকাশের পর।