logo

মিয়ানমারে খাবার পানির তীব্র সংকট, শরণার্থী শিবিরে মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

মিয়ানমারে খাবার পানির তীব্র সংকট, শরণার্থী শিবিরে মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

মিয়ানমারে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে কারেন্নি রাজ্যে যুদ্ধ থেকে বাঁচতে পালিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া হাজারো পরিবার এখন নতুন সংকটের মুখে পড়েছে। খাবার পানির তীব্র অভাব দেখা দেওয়ায় সেখানে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে শরণার্থী শিবিরগুলোতে।

মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাওয়ার্দি জানায়, শিবিরগুলোতে প্রাকৃতিক পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের এখন টাকা দিয়ে পানি কিনতে হচ্ছে। সেন ইয়াং কয়াল শিবিরের বাসিন্দা এক নারী বলেন, ‘আমাদের আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে পানি কিনতে। বাচ্চার যত্ন আর রান্নার জন্য প্রচুর পানির দরকার, কিন্তু দাম এখন আকাশচুম্বী।’

আট সদস্যের এই পরিবারটি এখন কেবল গৃহকর্তার অনিয়মিত আয়ের ওপর টিকে আছে।

সাধারণত ডিসেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই শিবিরগুলোতে গাড়ির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মিয়ানমারেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে মার্চ মাসের শুরু থেকে পানি সরবরাহের খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আগে এক হাজার লিটার পানি ১০ হাজার কিয়াটে (২ ডলার) পাওয়া গেলেও এখন তা ২০ হাজার কিয়াট দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অনেক সরবরাহকারী লাভ না হওয়ার অজুহাতে পানি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

‘লন্ডন’ নামক একটি শরণার্থী শিবিরের এক বাসিন্দা জানান, আয়ের উৎস না থাকায় তারা এখন দিনে মাত্র তিন ট্যাংক পানি দিয়ে কোনোমতে চলছেন। পার্শ্ববর্তী শিবিরগুলোতে চর্মরোগ এবং পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। জান্তা বাহিনীর হামলার ভয়ে এই শরণার্থীরা ফসল কাটার জন্য নিজেদের গ্রামেও ফিরতে পারছেন না।

ত্রাণ কর্মীরা জানিয়েছেন, দাতা সংস্থার অভাব এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে বিনামূল্যে পানি সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পশ্চিম ডেমোসো এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের সহায়তাকারী কো লওয়ান বলেন, ‘এ বছর প্রাকৃতিক উৎসগুলো আগেভাগেই শুকিয়ে গেছে। জ্বালানি সংকট আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।’

কারেন্নি স্টেটের অন্তর্বর্তী নির্বাহী পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিকল্প উপায়ে জ্বালানি ও পানি সরবরাহের চেষ্টা করছেন, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি তারা।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, কারেন্নি রাজ্যের প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বর্তমানে বাস্তুচ্যুত। তবে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ৪০০টিরও বেশি শিবিরে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।