logo

কিশোরীকে নির্যাতন করেছিলেন ট্রাম্প

কিশোরীকে নির্যাতন করেছিলেন ট্রাম্প

এপস্টিন ফাইলসে উঠে এসেছে এমন একটি দাবি, যেখানে বলা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে নির্যাতন করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তিনি সেই কিশোরীকে ঘুসিও মারেন।

পরিচয় প্রকাশ না করা এক নারী দাবি করেছেন, তিনি যখন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন তখন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালান। ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ধনকুবের জেফরি এপস্টিনের মাধ্যমে তার সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় হয়েছিল।

২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই নারী দাবি করেন, তার বয়স তখন ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল। তিনি বলেন, প্রথমবার ট্রাম্পের সঙ্গে তার দেখা হয় নিউইয়র্ক অথবা নিউ জার্সিতে। সেই সময় জেফরি এপস্টিনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, তিনি ট্রাম্পকে কামড় দেওয়ার পর ট্রাম্প তাকে আঘাত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তার চুল টেনে ধরেন এবং মাথার পাশে ঘুসি মারেন।

এই অভিযোগের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার দাবি, একজন মানসিকভাবে অসুস্থ এবং দীর্ঘ অপরাধমূলক ইতিহাস থাকা নারীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়েছে এবং এর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।

তিনি আরও বলেন, এই অভিযোগগুলোর ভিত্তিহীনতা প্রমাণ করে যে জো বাইডেন প্রশাসনের বিচার বিভাগ চার বছর ধরে এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের মতে, কারণ তারা জানত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ভুল করেননি।

লেভিট বলেন, এপস্টিন ফাইলস প্রকাশের মাধ্যমে ট্রাম্প সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

এফবিআই তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে, যা এফবিআই ৩০২ নামে পরিচিত, ওই নারী দাবি করেন যে শুরু থেকেই ট্রাম্প তাকে পছন্দ করতেন না। তার ভাষায়, ট্রাম্প পছন্দ করতেন না যে তিনি একজন ‘টমবয়’ ধরনের মেয়ে ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টমবয় বলতে তিনি এমন মেয়েকে বোঝাতে চেয়েছেন যার আচরণ ছেলেদের মতো। ওই নারী আর কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন তা মনে করতে পারেননি। তবে তার দাবি, ট্রাম্প তাদের সরে যেতে বলার পর অন্যরা চলে যান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প ওই নারীকে আঘাত করে বলেন, এই মেয়েটাকে এখান থেকে বের করে দাও।  তদন্তকারীদের ওই নারী জানান, তিনি ট্রাম্পকে কামড়েছিলেন কারণ তিনি তাকে ঘৃণা করতেন।

সেই নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে আঘাত করার আগে ট্রাম্প এমন কিছু বলেছিলেন যার অর্থ ছিল ছোট মেয়েদের কেমন হওয়া উচিত তা শেখানো দরকার। এরপর তিনি তার প্যান্টের চেইন খুলেছিলেন বলেও দাবি করা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এপস্টিন ফাইলসে প্রকাশিত নথিগুলোই তাকে নির্দোষ প্রমাণ করে।

তবে এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার কিছু মিত্র এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীরা। বিশেষ করে যখন কিছু রিপাবলিকান নেতা এসব নথি প্রকাশের দাবি তোলেন, তখন ট্রাম্প তাদের সমালোচনা করেন।

এদিকে একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প এপস্টিনের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে ৩০ শতাংশ মানুষ মনে করেন তিনি তা করেননি। ট্রাম্প এ অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।

গত মাসে পরিচালিত ইউগভ জরিপে দেখা যায়, ৯১ শতাংশ ডেমোক্র্যাট, ৫৫ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার এবং ১২ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন ট্রাম্প এপস্টিনের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছেন।

সূত্র : মিরর