logo

হরমুজে বাড়তি কর্তৃত্ব পাচ্ছে ইরান

হরমুজে বাড়তি কর্তৃত্ব পাচ্ছে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তির অনানুষ্ঠানিক খসড়া প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালির নৌচলাচলের ওপর তেহরান ব্যাপক কর্তৃত্ব পাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের অবরুদ্ধ ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে।

শনিবার (৩০ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, খসড়াটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিধিমালার পুনর্নির্ধারণ। এতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর প্রকৃতি ও ঝুঁকি নির্ধারণে ইরানকে একক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, কোনো জাহাজের বহন করা পণ্যকে হুমকিস্বরূপ মনে হলে অথবা জাহাজটির চূড়ান্ত সুবিধাভোগীকে ইরানের প্রতি বৈরী হিসেবে বিবেচনা করা হলে সেটিকে বাণিজ্যিক জাহাজ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে জাহাজটিকে নির্ধারিত জলপথ ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া নাও হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নৌপথ, নৌচলাচল–সংক্রান্ত সেবার ফি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত ক্ষতি মোকাবিলার ব্যয় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ইরানকে কর্তৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী প্রতিটি জাহাজকে নির্ধারিত নৌকেন্দ্রে তথ্য জমা দিতে হবে। এতে জাহাজের পণ্য, মালিকানা ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজটি কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজনে সরেজমিনে পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

চুক্তির খসড়ায় একটি আর্থিক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের অবরুদ্ধ ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, এই অর্থ তেহরানের নির্বাচিত ব্যাংকগুলোতে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই স্থানান্তর ও ব্যয় করা যাবে। তবে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যমটি জানিয়েছে, এটি এখনো একটি ‘অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা’ পর্যায়ের খসড়া। বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা, আলোচনা ও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট ও ইসরায়েলে যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ চালালে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। রণকৌশল হিসেবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ও বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টির জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এরপর থেকে যেন ‘দাবার গুটি’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান।

পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করলেও ইরানকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। নিজেদের শোচনীয় ‘পরাজয়’ লুকাতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, পরবর্তীতে তার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং আলোচনা-প্রস্তাবনার পালা জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল