ইরানে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা পেছানোর ঘোষণায় কমলো তেলের দাম

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক প্রতিবেদেনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
শান্তি আলোচনার মধ্যে তেলের বাজারে উত্থান-পতন দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে শুক্রবার দাম কিছুটা কমলেও তা আগের দিনের সেই ব্যাপক বৃদ্ধিকে পুরোপুরি কমিয়ে আনতে পারেনি।
শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত আড়াইটায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৯৩ দশমিক ০৭ ডলারে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। আর এ সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, আগামী ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ থাকবে। তেহরানের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি, পাশাপাশি চলমান আলোচনা ‘খুব ভালো’ এগোচ্ছে বলেও দাবি করেন।
তবে এটি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং একই ইস্যুতে ট্রাম্পের ধারাবাহিক সময়সীমা বাড়ানোর দ্বিতীয় ঘোষণা। সোমবার (২১ মার্চ) তিনি প্রথমে হুঁশিয়ারি দেন—ইরান দ্রুত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালি খুলে না দিলে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। এরপর ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তিনি।
সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে গত সোমবার তিনি প্রথমবার হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেন, ‘গঠনমূলক আলোচনার’ অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে। সর্বশেষ ঘোষণাটি সেই সময়সীমারই সম্প্রসারণ।