বুলগেরিয়ায় রুশপন্থি রাদেভের নিরঙ্কুশ জয়, অবসান হচ্ছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার

বলকান উপদ্বীপের রাষ্ট্র বুলগেরিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভ। রোববারের (১৯ এপ্রিল) নির্বাচনে বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, রাদেভের নেতৃত্বাধীন প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া (পিবি) জোট নিরঙ্কুশ জয়ের পথে রয়েছে।
গত পাঁচ বছরে দেশটিতে এটি ছিল অষ্টম সংসদীয় নির্বাচন। বারবার নির্বাচনেও কোনো দলীয় যখন স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে পারছিল না, তখন রাদেভের এই সম্ভাব্য জয় দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে মুক্তি দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়াপন্থি হিসেবে রাদেভের পরিচিতিও রয়েছে। ফলে তার বিজয়কে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিজয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ওয়েবসাইট অনুসারে, সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত ৬০ শতাংশের বেশি (৬০.৭৯ শতাংশ) ভোট গণনা করা হয়েছে। এতে রাদেভের পিবি দলকে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রেখেছে। ফলে দলটি ২৪০ আসনের সংসদে কমপক্ষে ১৩২টি আসনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
উদারপন্থি পিপি-ডিবি জোটের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে পিবি দল। অন্যদিকে, দেশটির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা বোয়কো বরিসভের নেতৃত্বাধীন ‘জিইআরবি’ পার্টি মাত্র ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ খবর জানিয়েছে ইউরোনিউজ।
এর আগে, সোফিয়াভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আলফা রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, রুমেন রাদেভের জোট প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে। ২৪০ আসনের পার্লামেন্টে এটি ১৩১টির মতো আসন নিশ্চিত করতে পারে, যা এককভাবে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত।
নির্বাচনে জয়ের আভাস পাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে রুমেন রাদেভ একে ‘আশার জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি অবিশ্বাসের বিরুদ্ধে আশার জয় এবং ভীতির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জয়।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাদেভ সাধারণ মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বড় প্রভাব ফেলেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে দরিদ্র সদস্য দেশটিতে ২০২১ সাল থেকে একের পর এক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সেসময় দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশ ইউরোপপন্থি নেতা বোয়কো বরিসভের রক্ষণশীল প্রশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।
টানা ৯ বছর প্রেসিডেন্ট থাকার পর চলতি বছরের শুরুতে পদত্যাগ করেন ৬২ বছর বয়সী রাদেভ। তিনি দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাদেভের রাজনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি বারবার ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিরোধিতা করেছেন। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতির সমালোচনা করেছেন।
তিনি যুক্তি দেন, ইউক্রেনকে সমর্থন করলে বুলগেরিয়া এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিমান বাহিনীর সাবেক এই জেনারেল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সংলাপেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
তার নির্বাচনি প্রচারণাও বিতর্ক থেকে মুক্ত ছিল না। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে মঞ্চে দেখানো একটি ভিডিও ক্লিপে পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকের ফুটেজ অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিরোধী দলগুলো তার সমালোচনা করেছে।
মাত্র কয়েক দিন আগেই রাদেভ তার পূর্বের একটি বিতর্কিত অবস্থানে আরও অটল হন। সেখানে তিনি তার এই বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সংযুক্ত ইউক্রেনীয় ক্রিমিয়ান উপদ্বীপ ‘রাশিয়ার অংশ’। এর ফলে তিনি দেশে ও বিদেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। যদিও তিনি এই অবস্থানকে ‘বাস্তবসম্মত’ বলে দাবি করেন।