logo

ইরানে হামলার কথা ভাবছে আরব আমিরাত

ইরানে হামলার কথা ভাবছে আরব আমিরাত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে আবুধাবি যদি হামলা চালায়, তাহলে এটা হবে নজিরবিহীন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামো ও তেল-গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত; এমনকি ইসরায়েলের তুলনায়ও বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে।

আমিরাতের নীতিনির্ধারণী আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না থাকলেও ৮০০টির বেশি প্রজেক্টাইলের মুখে পড়েছে।’

সূত্রটি আরও বলেন, আমিরাতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো দেশই নিজের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করা থেকে বিরত থাকতে পারে না।

 

যুদ্ধের প্রথম দিনেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে হামলা চালায় ইরান। দ্বিতীয় দিনে হামলার পরিধি বাড়িয়ে এতে যুক্ত হয় ওমান ও সৌদি আরবে। হামলার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতেও। কাতার তার বেশিরভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। একই দিন রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানে বলে জানা গেছে।

আটকানো ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জেবেল আলী বন্দরে আগুন লাগায়। এছাড়া দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহর একটি বিলাসবহুল হোটেলেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানি হামলার জবাবে সৌদি আরবও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

এদিকে আমিরাতের রাষ্ট্রপতির পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, “উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের হামলা ‘ভুল’ এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইরানকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ‘আপনার যুদ্ধ আপনার প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়। এই উত্তেজনা প্রমাণ করে যে ইরানই এই অঞ্চলে অস্থিরতার প্রধান উৎস, আর তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীলতার কারণ।’

 

এর আগে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে ইরানে সমন্বিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে এই দুই দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে ইরানের। যদিও তেহরান দাবি করছে, পরমাণু শক্তি অর্জন তাদের অধিকার এবং তারা তা শান্তিপূর্ণভাবে করছে। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য।

কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দাবি, ইরান পরমাণু শক্তি অর্জন করলে ‘বিশ্ব মানবতার জন্য হুমকি’ হয়ে দাঁড়াবে। তাই দেশটিকে রুখতে তারা হামলা চালিয়েছে।

এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির জন্য গত বছর থেকে কয়েক ধাপে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনার মধ্যে গত বছরের জুনে ইরানে আকস্মিক হামলায় চালায় ইসরায়েল। সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এবারও একই পথে হেঁটে তেহরানে হামলা চালিয়েছে মিত্র দুই দেশ।