ইরানের হামলায় ২ শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত: সেন্ট্রাল কমান্ড

ইরানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি অভিযানে দুই শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন বলেন জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ শুরুর পর সোমবার পর্যন্ত অন্তত ২০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এ ছাড়াও এই যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
তিনি জানান, আহতদের বেশির ভাগের চোট তুলনামূলকভাবে সামান্য ও ইতোমধ্যে ১৮০ জন আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে কী ধরনের আঘাত পেয়েছেন বা কীভাবে আহত হয়েছেন—এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এর আগে, এবিসি নিউজ জানায়, আহতদের মধ্যে দগ্ধ হওয়া, শেল বা বিস্ফোরণের টুকরার আঘাত এবং মস্তিষ্কে আঘাত (ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি) রয়েছে। অন্তত ১০ জন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
নিহত ১৩ মার্কিন সেনা
সোমবার পর্যন্ত এই যুদ্ধে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন সামরিক রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন।
এ ছাড়া কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে পরিচালনাকেন্দ্রে ইরানের ড্রোন হামলায় আরও ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। আর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে হামলায় আহত হয়ে আরেকজন সেনার মৃত্যু হয়েছে।
বাড়ছে সামগ্রিক প্রাণহানি
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত দেশটিতে ১৩শ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি লেবাননে শতাধিক বেসামরিক নাগরিক ও অন্তত ১৫ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সংঘাত নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। একদিকে তিনি পশ্চিমা মিত্রদের যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালি রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রণালি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকভাবে জড়ানো প্রয়োজন নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা তৈরি করছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।