কলকাতায় ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০

কলকাতার তারাতলায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে পড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আটকা পড়ে আছেন বেশ কয়েকজন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। সর্বশেষ খবরে ৩২ জনকে উদ্ধার করার কথা জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনকে মৃত ঘোষণা করেছে চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার তারাতলা ব্রেসব্রিজের কাছে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে পড়ে। তিন তলা ভবনটি মূলত একটি চায়ের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল।
ভবনের ওপরের দুই তলার ঢালাই আগেই শেষ হয়েছিল। আজ বুধবার এক তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
তারা জানান, এর আগেও নির্মাণকাজের সময় ভবনটির একটি অংশ একবার ভেঙে পড়েছিল। এরপর সেটি কোনোমতে মেরামত করে শেডের নিচে ভেতরে ঢুকেই আবারও পুরো ‘সেটআপ’ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন শ্রমিকরা। তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট) টিম। এ ছাড়াও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় এনডিআরএফ, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ, কলকাতা পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া সব শ্রমিককেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা ইউনিটে। বৃহস্পতিবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচজনকে। তাদের সন্ধান চালাতে সেনাবাহিনী ব্যবহার করছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি।
এদিকে গতকাল দুর্ঘটনার পর থেকেই সন্ধান চালানো হচ্ছিল এই গোডাউন তৈরির ঠিকাদার আসগার হুসেইনের। বৃহস্পতিবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় তার দেহও।
অন্যদিকে পোর্ট ট্রাস্ট-এর কাছ থেকে এই জমি গোডাউন তৈরির জন্য লিজ নিয়েছিলেন শম্ভুনাথ বেহেরা। গাফিলাদির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও চারজনকে।
