logo

যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতিতে ফিকে ঈদের আনন্দ মধ্যপ্রাচ্যে

যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতিতে ফিকে ঈদের আনন্দ মধ্যপ্রাচ্যে

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এবারের ঈদুল ফিতরের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরান, গাজা ও লেবাননের মানুষের জন্য উৎসবের চেয়ে টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেকেই বাড়িঘর হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। তাদের কাছে ঈদের আনন্দের চেয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দেশটিতে সাম্প্রতিক হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় ঈদ উদযাপনের পরিবেশও অনেকটাই অনুপস্থিত। 

ইরানেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাশাপাশি আগে থেকেই চলমান অর্থনৈতিক সংকট মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঈদকে ঘিরে কেনাকাটা অনেকের জন্যই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি রাজধানী তেহরানের বড় বাজারগুলোও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কেনাকাটায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গাজা উপত্যকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অবরোধের কারণে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণই কঠিন হয়ে উঠেছে। বাজারে কিছু পণ্যের উপস্থিতি থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই এখন অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। তাদের জন্য ঈদের নতুন পোশাক, খাবার বা উপহার কেনার মতো সামর্থ্য নেই।

এ পরিস্থিতিতে অনেকেই বলছেন, ঈদের বাহ্যিক পরিবেশ কিছুটা থাকলেও বাস্তবে মানুষের মনে উৎসবের আনন্দ নেই। যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে স্বাভাবিক জীবনযাপনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও কিছু মানুষ পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে এক ধরনের মানসিক শক্তি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামাজিক সংহতিই দীর্ঘমেয়াদে সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

সূত্র: আলজাজিরা